ভারতের জন্য প্রার্থনা করল প্রায় ৭০০ খ্রীষ্ট বিশ্বাসী
গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনে রাজধানী দিল্লি সাক্ষী থাকল এক অনন্য আত্মিক মিলনের। "ব্লেস ইন্ডিয়া" শীর্ষক প্রার্থনা সভায় বিভিন্ন চার্চ ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের প্রায় ৭০০ বিশ্বাসী ডায়োসেশন কমিউনিটি সেন্টারে সমবেত হয়ে ভারতের জন্য একযোগে প্রার্থনা করেন।
সকাল থেকেই প্রার্থনা হলে ছিল উৎসবমুখর অথচ গভীর ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ। ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট, অর্থোডক্সসহ বিভিন্ন মণ্ডলীর যাজক, সিস্টার, যুবক-যুবতী এবং পরিবারগুলি জাতীয় পতাকার রঙে সজ্জিত হলে এসে উপস্থিত হন।অগ্নিপ্রজ্জ্বোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
প্রার্থনা সভার নেতৃত্ব দেন দিল্লির আর্চবিশপ অনিল জে. টি. কৌটো এবং রেভ. ফাদার নরবার্ট হারমানসহ বিশিষ্ট খ্রীষ্টান নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন চার্চের পালক-পুরোহিত ও পরিচর্যাকারীরাও।
ভারতের জন্য প্রার্থনা ২০২৬ – "ব্লেস ইন্ডিয়া": এক হৃদয়ে দেশের জন্য প্রার্থনায় ৭০০ খ্রীষ্টান ধর্ম বিশ্বাসী।র বিশেষ নিবেদনগুলি ছিল:
- দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্যের জন্য
- গরিব, দলিত, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নতি ও ন্যায়ের জন্য
- নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও মর্যাদার জন্য
- যুব সমাজের ভবিষ্যৎ ও নৈতিক দিকনির্দেশনার জন্য
- কৃষক ও শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার জন্য
- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রজ্ঞা ও সৎ পরিচালনার জন্য
আর্চবিশপ কৌটো তাঁর বাণীতে বলেন, "ভারতকে আশীর্বাদ করা মানে শুধু প্রার্থনা করা নয়, প্রতিবেশীকে ভালোবাসা এবং দেশ গঠনে অংশ নেওয়া।"
ফাদার নরবার্ট হারমান বলেন, "২ অক্টোবর আমরা স্মরণ করি মহাত্মা গান্ধীকে, যিনি অহিংসা ও সত্যের পথ দেখিয়েছিলেন। আজ খ্রীষ্টান হিসেবে আমরা সেই একই মূল্যবোধ নিয়ে দেশের জন্য প্রার্থনা করছি।"
ভজন, বাইবেল পাঠ, নীরব প্রার্থনা এবং সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে সভা এগিয়ে চলে। শেষে সকলে হাত ধরে "ঈশ্বর আমাদের ভারতকে আশীর্বাদ করুন" গান গেয়ে প্রার্থনা শেষ করেন।
আয়োজকদের মতে, "প্রে ফর ইন্ডিয়া ২০২৬" শুধু একট অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় খ্রীষ্টানদেরঐক্য, বিশ্বাস ও দেশপ্রেমের জীবন্ত প্রকাশ। অনুলিখন – চন্দনা রোজারিও।
