‘গোলটেবিল সংলাপ’-এ এশিয়ার স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

FABC-এর ১২তম অধিবেশন সভা-এর দ্বিতীয় দিনে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং সিনডাল মিশনে যৌথভাবে এগিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন বিশপ ও প্রতিনিধিরা। `গোলটেবিল সংলাপ’-এর মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা, পারস্পরিক সহায়তা এবং অভিন্ন পালকীয় উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি'ক্রুজ, ওএমআই। তিনি প্রতিনিধিদের ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পালকীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে প্রতিনিধিদের মধ্য ও পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—এই তিনটি আঞ্চলিক দলে ভাগ করা হয়।

প্রতিটি দল একই প্রশ্নের আলোকে আলোচনা করে—কীভাবে নিজেদের অঞ্চলের স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা যায়, সিনডাল সেতুবন্ধন গড়ে তোলা যায় এবং অভিন্ন মিশনে সহযোগিতা বাড়ানো যায়।

আলোচনাগুলো ‘পবিত্র আত্মার আলোকে সংলাপ’ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে তর্ক-বিতর্কের পরিবর্তে প্রার্থনাময় শ্রবণ, নীরবতা, সংলাপ ও আত্মিক বিচক্ষণতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন সমন্বয়কারী ও একজন সম্পাদক ছিলেন, যিনি আলোচনার সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে সবার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন।

প্রতিনিধিরা বলেন, এশিয়ার সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বৈচিত্র্যের মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ মিশনের মাধ্যমে স্থানীয় মণ্ডলীগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে। তাদের মতে, সিনডাল মণ্ডলী গড়ে তোলার অর্থ শুধু নতুন কাঠামো তৈরি নয়; বরং পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও যৌথ দায়িত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে পথচলা।

অধিবেশনের আলোচনায় আবারও উঠে আসে, এশিয়ার মণ্ডলী তখনই প্রকৃত অর্থে সেতুবন্ধন নির্মাতা হয়ে উঠবে, যখন স্থানীয় মণ্ডলীগুলো একে অপরের কাছ থেকে শিখবে, একসঙ্গে আত্মিক বিচক্ষণতার চর্চা করবে এবং বিশ্বজনীন মণ্ডলীর সঙ্গে ঐক্যে থেকে সুসমাচারের মিশন এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Tags
Bengali pop up image