এশিয়ায় মেরুকরণ বৃদ্ধির বিষয়ে এফএবিসিকে সতর্ক করলেন মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক
এশিয়ায় ক্যাথলিক মণ্ডলীর জন্য আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিপীড়ন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান মেরুকরণ। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অধ্যয়ন বিভাগের জুনিয়র প্রভাষক ড. চুং পুই ই এফএবিসির (ফেডারেশন অব এশিয়ান বিশপস' কনফারেন্স) ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলিতে এ সতর্কবার্তা দেন।
গত ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, জাকার্তায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে "এশিয়ার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট এবং প্রেরণাধর্মী সিনোডাল মণ্ডলীর সেতু ও সেতুবন্ধনকারী হওয়ার বাস্তব উপায়" শীর্ষক উপস্থাপনায় তিনি বলেন, এশিয়াজুড়ে রাজনৈতিক, জাতিগত ও মতাদর্শগত বিভাজন দিন দিন গভীর হচ্ছে এবং এর প্রভাব মণ্ডলীর জীবনেও প্রবেশ করছে।
ড. চুং বলেন, অভিবাসন, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়া এবং দ্রুত ডিজিটাল যোগাযোগ এশিয়ার সমাজে গভীর পরিবর্তন আনছে। এসব পরিবর্তনের একটি সাধারণ ফল হলো মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণ। তিনি বিশেষভাবে "আবেগগত মেরুকরণ" (Affective Polarization)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, মানুষ যখন ভিন্নমতকে কেবল মতপার্থক্য হিসেবে না দেখে শত্রুতা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে, তখন সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রবণের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের চারপাশে এমন তথ্যের পরিসর তৈরি করছে, যা কেবল নিজেদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করছে এবং ভিন্নমতের মানুষের প্রতি অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলছে। এই সামাজিক বাস্তবতা থেকে খ্রিস্টানরাও মুক্ত নন। ফলে রাজনৈতিক, জাতিগত বা সাংস্কৃতিক পরিচয় অনেক সময় খ্রিস্টে বিশ্বাসীদের অভিন্ন পরিচয়কে ছাপিয়ে যায়।
ড. চুং জোর দিয়ে বলেন, এশিয়ার মণ্ডলীর প্রধান চ্যালেঞ্জ কেবল সংখ্যালঘু হিসেবে টিকে থাকা নয়; বরং ক্রমবর্ধমান বিভক্ত সমাজে ঐক্যের একটি বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য হয়ে ওঠা। তাঁর ভাষায়, "মতপার্থক্য কখনোই শত্রুতায় পরিণত হওয়া উচিত নয়।"
তিনি মণ্ডলীকে সমাজের বিভাজনের প্রতিচ্ছবি না হয়ে সংলাপ, পুনর্মিলন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ক্ষেত্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ বা পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকে মণ্ডলীর মিশনের চালিকাশক্তি না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মণ্ডলীর পরিচয় সবসময় খ্রিস্টকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।
এফএবিসির এবারের প্রতিপাদ্য "সেতু ও সেতুবন্ধনকারী হওয়া" প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে বিভাজন রয়েছে, সেখানেই সেতুর প্রয়োজন। তাই বর্তমান এশিয়ার প্রেক্ষাপটে পুনর্মিলন, ক্ষমা, দয়া ও ভালোবাসার সুসমাচারকে জীবন্ত করে তোলাই মণ্ডলীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বিশপ ও প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সিনোডাল চেতনা কেবল কাঠামো বা প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে এমন সম্প্রদায় গড়ে তোলে, যেখানে ভিন্নতা বিভাজনে রূপ নেয় না এবং সংঘাতের চেয়ে ঐক্য শক্তিশালী হয়ে ওঠে।- আরভিএ সংবাদ।
