সিনডাল বাস্তবায়নের কেন্দ্র স্থানীয় মণ্ডলী, রোম নয়: FABC-এ কার্ডিনাল মারিও গ্রেচ
FABC-এর ১২তম অধিবেশন সভা-এ সিনড অব বিশপসের মহাসচিব কার্ডিনাল মারিও গ্রেচ বলেছেন, সিনডাল বাস্তবায়নের সাফল্য রোমের নির্দেশনার ওপর নয়; বরং স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর জীবন, মিশন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। তিনি এশিয়ার বিশপদের নিজ নিজ ধর্মপ্রদেশে সিনডাল যাত্রার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান।
২৪ জুলাই জাকার্তার হোটেল মুলিয়ার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত "সিনডাল বাস্তবায়নের পথসমূহ" শীর্ষক উপস্থাপনায় কার্ডিনাল গ্রেচ বলেন, "এই বাস্তবায়ন পর্যায়ের মূল বিষয় হলো স্থানীয় মণ্ডলী—আপনাদের মণ্ডলী।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিনডাল যাত্রাকে রোম থেকে পরিচালিত কোনো কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং প্রতিটি ধর্মপ্রদেশে সুসমাচার ঘোষণা, সাক্রামেন্তীয় আরাধনা উদযাপন এবং ঈশ্বরের জনগণের একসঙ্গে পথচলার জীবনধারা হিসেবে দেখতে হবে।
দ্বিতীয় ভ্যাটিকান মহাসভার শিক্ষার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্থানীয় মণ্ডলী বিশ্বজনীন মণ্ডলীর কোনো প্রশাসনিক শাখা নয়; বরং নির্দিষ্ট একটি স্থানে বিশ্বজনীন মণ্ডলীর পূর্ণ উপস্থিতি।
কার্ডিনাল গ্রেচ স্মরণ করেন, সিনড অব বিশপসের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বিশপ তাঁকে লিখেছিলেন, "আমরা ভ্যাটিকানের কোনো সামন্ত-অঞ্চল নই। আমরা একটি স্থানীয় মণ্ডলী। আমরাই মণ্ডলী।" তাঁর মতে, এই কথাগুলো ক্যাথলিক মণ্ডলীর প্রকৃত পরিচয়কে তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৮ সালের মণ্ডলীয় সমাবেশ (Ecclesial Assembly)-এর পথে সিনডাল বাস্তবায়নের সাফল্য বিশ্বের প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের আন্তরিক অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, "কোনো স্থানীয় মণ্ডলী যদি তার অবদান না রাখে, তবে বিশ্বজনীন মণ্ডলী একটি মূল্যবান দান থেকে বঞ্চিত হয়।" প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, পালকীয় প্রজ্ঞা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সমগ্র মণ্ডলীর ঐক্যকে সমৃদ্ধ করে।
কার্ডিনাল গ্রেচ বলেন, "বিশ্বজনীন মণ্ডলীর প্রাণশক্তি আপনাদের স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর প্রাণশক্তির মধ্যেই নিহিত।" তাঁর মতে, সিনডাল বাস্তবায়নের লক্ষ্য নতুন নথি তৈরি করা নয়; বরং ধর্মপ্রদেশ, বিশপ সম্মেলন ও মহাদেশীয় সভাগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও দানের আদান-প্রদানের মাধ্যমে মণ্ডলীর ঐক্য ও মিশনকে আরও শক্তিশালী করা।
বক্তব্যের শেষে তিনি বিশপদের নিজ নিজ ধর্মপ্রদেশে ফিরে গিয়ে সিনডাল যাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মণ্ডলীর নবায়ন ঘটবে তখনই, যখন ধর্মপল্লী ও স্থানীয় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ে বিশপ, যাজক, ধর্মীয় জীবন উৎসর্গকারী এবং সাধারণ খ্রিস্টভক্তরা একসঙ্গে প্রার্থনা করবেন, একে অপরের কথা শুনবেন, আত্মিক বিচক্ষণতার চর্চা করবেন এবং সুসমাচারের মিশনে একযোগে পথ চলবেন।
