কলকাতার সাধ্বী তেরেসা গির্জায় হস্তার্পণ সংস্কার প্রদান

কলকাতার সাধ্বী তেরেসা গির্জায় হস্তার্পণ সংস্কার প্রদান

গত ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, রবিবার কলকাতার মৌলালির সাধ্বী তেরেসা গির্জায় আনন্দ ও ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে হস্তার্পণ সংস্কার গ্রহণের মাধ্যমে ২০ জন  সানডে স্কুলের যুবক-যুবতীদের জীবনে বিশ্বাসের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় গির্জা প্রাঙ্গণে মা মারিয়ার গুহার সামনে থেকে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পবিত্র খ্রীষ্টযাগ। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন গির্জার বেদিসেবকরা। কলকাতার মহাধর্মপ্রদেশের মহাধর্মপাল মহামান্য ড. এলিয়াস ফ্রাঙ্ক পবিত্র খ্রীষ্টযাগে পৌরোহিত্য করেন এবং ২০ জন যুবক-যুবতী কে হস্তার্পণ সংস্কার প্রদান করেন। তাঁর সঙ্গে সহযাজক ছিলেন গির্জার পালপুরোহিত ফাদার বাসিল মান্ডি, ফাদার নাভিন তাউরো, ফাদার সুব্রত বৈদ্য এবং ডিকন মানিশ তিগ্গা, এস.জে.।

এই সংস্কার গ্রহণের মধ্য দিয়ে যুবক-যুবতীরা পবিত্র আত্মার বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করে এবং খ্রীষ্ট ও তাঁর মন্ডলীর প্রতি নিজেদের বিশ্বাস ও অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করে। বাপ্তিস্মের সময় প্রাপ্ত অনুগ্রহকে হস্তার্পণ সংস্কার আরও পরিপূর্ণ করে তোলে। একই সঙ্গে এই সংস্কার বিশ্বাসীদের খ্রীষ্টের একনিষ্ঠ সাক্ষী হয়ে ওঠার আহ্বান জানায়। হস্তার্পণ ও অভিষেকের মধ্য দিয়ে শিশুদের ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা, বিশ্বাসে বেড়ে ওঠা এবং সুসমাচারের শিক্ষা অনুসারে জীবনযাপনের জন্য উৎসাহিত করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে ধর্মপল্লীর পক্ষ থেকে পালপুরোহিত ফাদার বাসিল মান্ডি ২০ জন যুবক যুবতীকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের আগামী দিনের বিশ্বাসের পথচলার জন্য প্রার্থনা করেন।

এই বিশেষ দিনটিকে সুন্দর ও স্মরণীয় করে তুলতে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে তিনি ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান সিস্টার এলিশা মেরি ও সিস্টার মারিয়া রুয়াহকে, যাঁরা সানডে স্কুলের সমন্বয়কারী শ্রীমতি অ্যাগনেস রোজারিও এবং অন্যান্য শিক্ষকদের পরিচালনায় যুবক যুবতীদের এই সংস্কার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করেন। পাশাপাশি যুব স্বেচ্ছাসেবক, গায়কদল, বেদিসেবক এবং গির্জার সাক্রিস্তানকেও তাঁদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

পবিত্র খ্রীষ্টযাগের পর হস্তার্পণ সংস্কার গ্রহণকারী যুবক যুবতীদের নিয়ে একটি বিশেষ মিলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কেক কাটার মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেয় তারা। অনুষ্ঠানের শেষে আর্চবিশপের হাত থেকে ২০ জন শিশু তাদের দৃঢ়ীকরণ সংস্কারের শংসাপত্র গ্রহণ করে।

প্রতিবেদন — ডমিনিক পাঞ্জা

অনুবাদ - তেরেসা রোজারিও

 

Bengali pop up image