নারায়ণগঞ্জ সাধু পলের ধর্মপল্লীতে উদযাপিত হলো প্লাটিনাম জুবিলী

ঐতিহ্যবাহী সাধু পলের ধর্মপল্লীতে উদযাপিত হলো প্লাটিনাম জুবিলী

গত ৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী সাধু পলের ধর্মপল্লীতে উদযাপিত হলো প্লাটিনাম জুবিলী।

এ প্লাটিনাম জুবিলী উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, বাংলাদেশে নিযুক্ত পোপের প্রতিনিধি আর্চবিশপ কেভিন এস. রান্ডালসহ ধর্মপ্রদেশের ফাদারগণ, সিস্টারগণ এবং খ্রিস্টভক্তগণ।

একটি ধর্মপল্লীর ৭৫ বছরের পথচলা শুধু সময়ের হিসাব নয়; এটি বিশ্বাস, প্রার্থনা, ত্যাগ, সেবা, ভালোবাসা ও ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততার একটি চিহ্ন। সাধু পৌলের গির্জা শুধু ইট-পাথরের একটি উপাসনালয় নয়। এটি নারায়ণগঞ্জের খ্রিস্টবিশ্বাসী মানুষের আত্মিক আশ্রয়, আনন্দ-বেদনার সঙ্গী এবং প্রার্থনার নিবিড় কেন্দ্র।

এ জুবিলী উৎসবের খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ। তিনি তাঁর বাণীতে বলেন, “এই ধর্মপল্লীটি সকল ধর্মপল্লী থেকে আলাদা বৈশিষ্ট বহন করে। এখানে গির্জাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এমন একদল মানুষের আধ্যাত্মিক প্রয়োজনের কথা ভেবে, যারা ব্যবসায়ের কাজে এই নারায়ণগঞ্জ বন্দরে জাহাজ নঙ্গর করতেন। তারা ছিলেন বিদেশী বণিক। তাদের আধ্যাত্মিক যত্নের জন্য ফাদারগণ ঢাকা থেকে এই নারায়ণগঞ্জে এসে খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ এবং পালকীয় সেবা দান করতেন।”

নারায়ণগঞ্জ সাধু পলের ধর্মপল্লীতে উদযাপিত হলো প্লাটিনাম জুবিলী

তিনি আরও বলেন, “নতুন প্রজন্মকে খ্রিস্টের শিক্ষা, মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সেবার আদর্শে গড়ে তোলা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তরুণদের মধ্যে যেন বিশ্বাসের আলো, সত্যের সাহস এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা আরও শক্তিশালী হয় এই হোক জুবিলির অন্যতম প্রত্যাশা।”

“প্লাটিনাম জুবিলি শুধু অতীতকে স্মরণ করার উৎসব নয়; এটি ভবিষ্যতের পথে নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান। অতীতের গৌরব আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে, কিন্তু আগামী দিনের দায়িত্ব আমাদেরই বহন করতে হবে,” বলেন আর্চবিশপ ডি’ক্রুজ।

ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার বিপুল ডেভিড দাস, সিএসসি, সাবইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই ধর্মপল্লীর প্রধান ও প্রথম পালকীয় কাজ হচ্ছে, যারা কাজের সুবাদে শহরে আসে তাদেরকে সেই উত্তম মেষ পালকের মতো খুঁজে নেওয়া ও যত্ন নেওয়া।”

“জুবিলী বর্ষ হলো- ঈশ্বরের অনুগ্রহের বর্ষ। আশা ও বিশ্বাস করি ঈশ্বর এই জুবিলী বৎসরে নারায়ণগঞ্জ বসবাসরত প্রতিটি শ্রমিক খ্রিস্টসৈনিকদের আশীর্বাদ করবেন,” বলেন ফাদার দাস, সিএসসি।

তিনি আরও বলেন, “এই জুবিলি পালন করতে যারা মেধা, শ্রম, অর্থ সহায়তা, সময়, পরামর্শ দিয়ে জুবিলী অনুষ্ঠানকে সার্থক ও সুন্দর করতে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রত্যেককে আমি আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

ধর্মপল্লীর একজন খ্রিস্টভক্ত তার মনের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আজ আমাদের ধর্মপল্লীর ৭৫ বছর পূর্তিতে আমি অনেক আনন্দিত কারণ এই ধর্মপল্লী থেকেই এই এলাকায় বাণী প্রচার করা হয়েছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই এবং একই সাথে ধর্মপল্লীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।”

উল্লেখ্য যে, ফাদার আন্তনী ওয়েবার সি.এস.সি. ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে এখানে জমি ক্রয় করেন এবং ফাদার পল শ্যে সি.এস.সি. ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে গির্জা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পাল-পুরোহিতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই প্লাটিনাম জুবিলী ধর্মপল্লীর সামনে এগিয়ে চলা ও সেবা কাজের প্রেরণা হয়ে থাকুক এই প্রত্যাশা সবার। - আরভিএ সংবাদ

Bengali pop up image