এফএবিসি‘র প্লেনারি সম্নেলন উপলক্ষে কার্ডিনাল পাবলোর ঐক্যের আহ্বান
জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অব এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্স (এফএবিসি)-এর ১২তম প্লেনারি সম্লেনের প্রস্তুতির প্রাক্কালে এফএবিসির সহ-সভাপতি কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও ডেভিড বলেছেন, “এশিয়ার মণ্ডলী বিভেদের স্থপতি নয়, বরং ঐক্যের সেতুনির্মাতা হওয়ার আহ্বান।”
তিনি বলেন, এই আহ্বান পোপ লিও চতুর্দশের এশিয়ার মণ্ডলীগুলোর উদ্দেশে দেওয়া বার্তারই প্রতিধ্বনি।সম্লেনের আগে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি পোপের বার্তা এবং কার্ডিনাল ওসওয়াল্ড গ্রাসিয়াসকে পোপের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগকে স্বাগত জানান। তাঁর মতে, এই বার্তা এফএবিসির সিনোডালিটি কমিটির সেই ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সম্লেনের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘সিনোডাল রূপান্তর’ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কার্ডিনাল ডেভিড জানান, কমিটি সিনোডাল যাত্রার প্রতীক হিসেবে সুসমাচারের দুই ব্যক্তিত্ব—জাখেয় ও নাথানায়েলকে নিয়ে ধ্যান করেছিল। শেষ পর্যন্ত নাথানায়েলকে সম্লেনের মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে নির্বাচন করা হলেও, তাঁর মতে এই দুই ব্যক্তিত্ব একই রূপান্তরের দুই ধাপকে তুলে ধরে।
তিনি বলেন, জাখেয় অহংকার, বিশেষ সুবিধাভোগ এবং আত্মনির্ভরতার উচ্চ আসন থেকে নেমে আসার প্রতীক, আর নাথানায়েল খ্রিস্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের মাধ্যমে “আরও মহৎ কিছু ” দেখার জন্য আত্মিক দৃষ্টির উন্মোচনের প্রতীক।
কার্ডিনাল ডেভিডের মতে, ‘বিভেদের বিভাজন’ পুনরাবৃত্তি না করে ‘ঐক্য গড়ে তোলার’ জন্য পোপের আহ্বানই প্রকৃত সিনোডাল রূপান্তরের আরেকটি প্রকাশ। তিনি বলেন, মণ্ডলীকে এমনভাবে পথ চলতে হবে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে ঈশ্বর থাকবেন এবং তার মধ্যে থাকবে মানুষ, একই সঙ্গে আধুনিক বিশ্বের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেও ভয় পাওয়া যাবে না।
এশিয়ার বৈচিত্র্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “বহুত্বই এশিয়ার শক্তি।” তাই একরূপতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে, এশিয়ার মণ্ডলীগুলোকে সংলাপ, পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে ঐক্যের সাক্ষ্য দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যিশু খ্রিস্টই ঈশ্বর ও মানবজাতির মধ্যে প্রকৃত সেতু। তাই প্রকৃত সিনোডাল রূপান্তর মানে হলো খ্রিস্টের পথ অনুসরণ করে মানুষ, সংস্কৃতি, ধর্ম, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের সঙ্গে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা।
শেষে কার্ডিনাল ডেভিড আশা প্রকাশ করেন, নাথানায়েলের চেতনায় এফএবিসির এই প্লেনারি সম্নেলনে মণ্ডলীকে “আরও মহৎ বিষয়” দেখতে অনুপ্রাণিত করবে এবং বিশপ ও খ্রিস্ট বিশ্বাসীরা ‘ঐক্য, অংশগ্রহণ ও মিশন’ এর চেতনায় একসঙ্গে পথচলা অব্যাহত রাখবেন। তিনি সমগ্র সম্লেনকে পবিত্র আত্মার কাছে সমর্পণ করেন। - আরভিএ সংবাদ।
