রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে অনুষ্ঠিত হলো খ্রিস্টীয় উপাসনা-সংগীত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

খ্রিস্টীয় উপাসনা-সংগীত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

গত ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের উপাসনা ও প্রার্থনা কমিশনের আয়োজনে, খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো খ্রিস্টীয় উপাসনা সংগীত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ।

উক্ত এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিলো খ্রিস্টীয় উপাসনায় সংগীতের মানোন্নয়ন, সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সংগীতকে উপাসনায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার।

চার দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে মোট ৯৪ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে বাংলা, সাঁওতালি, ওঁরাও ও লাতিন ভাষার সংগীতের পাশাপাশি সাম-সংগীত, স্বরলিপি, বিভিন্ন ভাষাভিত্তিক সংগীত এবং সেবক সংগীতের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন উপাসনায় সংগীত হলো প্রাণ, তিনি আরো বলেন সংগীত দুইবার প্রার্থনা করার সমান।

‘পুণ্য উপাসনায় সংগীত’ মণ্ডলীর শিক্ষা ও নির্দেশনা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ফাদার উজ্জ্বল গ্রেগরি। এরপর ফাদার লিংকন কস্তা অংশগ্রহণকারীদের *স্বরলিপির প্রাথমিক পরিচিতি* বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। সন্ধ্যায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়।

 এছাড়া দ্বিতীয় দিনের প্রশিক্ষণে ফাদার বাবলু কোড়াইয়ার পরিচালনায় বাংলা সংগীত শিক্ষা ও অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী পর্বে ফাদার গৌরব জি.পাথাং-এর নেতৃত্বে সামসঙ্গীত শিক্ষা ও অনুশীলন করা হয়।

বিকেলে ভাষাভিত্তিক সংগীত শিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে বাংলা, সাঁওতালি ও ওঁরাও ভাষার সংগীত নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন ফাদার বাবলু কোড়াইয়া, আলফ্রেড হেম্ব্রম ও সুমীলা এক্কা। সন্ধ্যায় বাংলা, সাঁওতালি ও ওঁরাও ভাষার ভাষাভিত্তিক সংগীতের ওপর আরও অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়।

তৃতীয় দিনে বাংলা সংগীত শিক্ষা ও অনুশীলনের পর সেবক সংগীত শিক্ষা ও অনুশীলন পরিচালনা করেন মি: সুবাস বাড়ৈ। এরপর ফাদার লিংকন কস্তার পরিচালনায়  লাতিন গান শিক্ষা ও অনুশীলন করা হয়।

দিনের শেষভাগে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন।

কর্মশালার শেষ দিনে সকালে পবিত্র খ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাংলা, সাঁওতালি ও ওঁরাও ভাষার ভাবার্থভিত্তিক সংগীতের ওপর প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন পরিচালনা করেন সুবাস বাড়ৈ, আলফ্রেড হেম্ব্রম ও সুমীলা এক্কা। পরে ফাদার লিংকন কস্তার পরিচালনায় লাতিন গান শিক্ষা ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এবং পরে মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।

চার দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা খ্রিষ্টীয় উপাসনায় সংগীতের গুরুত্ব, সংগীত পরিচালনা, স্বরলিপি, সাম-সংগীত, বাংলা ও বিভিন্ন আদিবাসী ভাষার ভাষাভিত্তিক সংগীত এবং লাতিন সংগীত সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধর্মপল্লীগুলোতে উপাসনা-সংগীতের চর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং মণ্ডলীর সদস্যদের উপাসনায় সংগীতের মাধ্যমে আরও সক্রিয় ও অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। সংবাদদাতা: আন্তন বিশ্বাস

 

Bengali pop up image