মতপার্থক্য পেরিয়ে ক্যাথলিকদের সংযুক্ত করবে ‘ক্যাথলিক কানেক্ট’

প্রথম এশীয় ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি সমাবেশের একটি প্যানেল আলোচনায় ‘ক্যাথলিক কানেক্ট’-এর ওপর আলোকপাত করেন ফাদার সিরিল ভিক্টর জোসেফ।

ভারতের ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলন (CCBI)-এর গণমাধ্যম ধর্মপ্রচার বিভাগের প্রথম জাতীয় সমন্বয়কারী ফাদার সিরিল ভিক্টর জোসেফ গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে, কেজন সিটির, পোপ দ্বিতীয় জন পল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম এশীয় ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি সমাবেশের একটি প্যানেল আলোচনায় ‘ক্যাথলিক কানেক্ট’-এর ওপর আলোকপাত করেন। তিনি জানান, ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ক্যাথলিকদের সংযুক্ত করার লক্ষ্যেই এই ‘ক্যাথলিক কানেক্ট’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে।

১১-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে, অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি, যোগাযোগকর্মী ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু নির্মাতারা অংশ নেন এবং পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পরিবেশে মণ্ডলীর মিশন নিয়ে আলোচনা করেন

ভারতের বৈচিত্র্য তুলে ধরে ফাদার সিরিল ভারতকে “স্বয়ং ক্ষুদ্র এশিয়া” বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ভারতে ২২টি প্রধান ভাষার পাশাপাশি ৩০০টিরও বেশি উপজাতীয় ভাষা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের কারণে দেশজুড়ে মঙ্গল সমাচার প্রচারের ক্ষেত্রে যোগাযোগ একটি বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।

আজকের ভারতের ডিজিটাল বাস্তবতা হল মূলত বহু তরুণ-তরুণী এবং অন্যান্য ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যের মানুষের কাছে পৌঁছানো,” তিনি বলেন

ফাদার সিরিলের মতে, ভারতের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হলেও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দেশটিতে এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংযোগহীন জনগোষ্ঠী রয়েছে। ফলে খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ বা সীমিত জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম মণ্ডলীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। একইসঙ্গে, বহুধর্মীয় সমাজে ভুল ধারণা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মোকাবিলা এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠাও চার্চের মিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন

এই প্রেক্ষাপটেই ‘ক্যাথলিক কানেক্ট’-এর ধারণার উদ্ভব। ফাদার সিরিল বলেন, ভারতজুড়ে একটি মাত্র ভাষায় ক্যাথলিকদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও রেডিওর মতো প্রচলিত গণমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা রয়েছে

এখন সেটা টিভি বা রেডিও বা অন্য যে কোন প্ল্যাটফর্ম হোক, জানেন তো, একটিমাত্র ভাষায় সবার কাছে পৌঁছানো কতটা কঠিন,” তিনি বলেন

ক্যাথলিক কানেক্ট’ বিভিন্ন অঞ্চলের ক্যাথলিকদের নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখেই একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করার লক্ষ্য রাখে। ফাদার সিরিল বিশেষভাবে আঞ্চলিক ভাষায় তথ্যভিত্তিক, শিক্ষামূলক ও আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু তৈরির ওপর জোর দেন

আঞ্চলিক ভাষাগুলোতে বিষয়বস্তু তৈরি, তথ্যমূলক বা শিক্ষামূলক ভিডিও নির্মাণ এবং আধ্যাত্মিকতা নিয়ে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে,” তিনি বলেন

তাঁর মতে, এই ধরনের কনটেন্ট শুধু ক্যাথলিকদের মধ্যেই সংযোগ বাড়াবে না, বরং যারা কখনও খ্রিস্টীয় বার্তা শোনেনি, তাদের কাছেও পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করবে। একইসঙ্গে, ডিজিটাল যোগাযোগ বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রও প্রসারিত করতে পারে

ফাদার সিরিলের মতে, ‘ক্যাথলিক কানেক্ট’ তাই শুধু তথ্য প্রচারের একটি মাধ্যম নয়; বরং ভারতজুড়ে ক্যাথলিকদের সংযোগ জোরদার করার পাশাপাশি ধর্মপ্রচার, শিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপের নতুন পথ তৈরির একটি উদ্যোগঅনুবাদ – অতনু দাস।

Bengali pop up image