ডিজিটাল পরিমণ্ডলকে মঙ্গলবাণীর প্রচারক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান

আর্চবিশপ আলারকন বলেন, ডিজিটাল জগত কোনো সমান্তরাল জগৎ নয়; বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ফিলিপাইনের কেজন সিটিতে প্রথম এশিয় ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি অ্যাসেম্বলির দ্বিতীয় দিনে পোপ জন পল দ্বিতীয় অডিটোরিয়ামে খ্রিস্টযাগে উপদেশ দেন আর্চবিশপ রেক্স এন্ড্রু আলারকন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল জগত এখন মণ্ডলীতে নতুনভাবে মঙ্গলবাণী প্রচারের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিবেশে খ্রিস্টভক্তদের বিচক্ষণতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সম্প্রদায়ের দৃঢ় চেতনা নিয়ে মঙ্গলবাণী প্রচার করতে হবে।

আর্চবিশপ আলারকন বলেন, ডিজিটাল জগত কোনো সমান্তরাল জগৎ নয়; বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। মানুষ এখানে মতামত গঠন করে, সম্পর্ক তৈরি করে, তথ্য খোঁজে এবং জীবনের অর্থ অনুসন্ধান করে। তাই মণ্ডলীর কাছেও ডিজিটাল পরিসর গুরুত্বপূর্ণ মিশন কর্মক্ষেত্র।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির কাছে যেন মানুষের চিন্তাশক্তির অবণতি না করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মধ্যে দ্রুত রাগ, ভয়, ঈর্ষা কিংবা আনন্দের মতো আবেগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ডিজিটাল মিশনারিদের এমন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, যা মানুষকে শুধু আবেগতাড়িত না করে সত্য, সহমর্মিতা সংলাপের দিকে পরিচালিত করে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মিশন শুধু প্রভাব বিস্তার বা জনপ্রিয়তা অর্জনের বিষয় নয়; বরং সম্প্রদায় গড়ে তোলা এবং খ্রিস্টের সাক্ষ্য দেওয়া এর মূল লক্ষ্য।

“তিনি হবে বড়, আর আমি হব ছোট” বাইবেলের এই বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে আর্চবিশপ আলারকন বলেন, “যিশু আমাদের আশার পথ দেখান। আমাদের কথা বা কনটেন্ট নয়, যিশুর ভালোবাসাই আমাদের পরিত্রাণ দেয়।

এশিয়ার ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারিদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, ডিজিটাল জগতকে এমন একটি মিশন ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করতে, যেখানে তারা খ্রিস্টের সাক্ষ্য দেবেন, সত্য প্রচার করবেন, সম্প্রদায় গড়ে তুলবেন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানুষের পাশে থাকবেন।- আরভিএ সংবাদ।

 

Bengali pop up image