কলকাতা সালেসিয়ান সমাজের ১৮তম প্রভিনশিয়াল ফাদার সুনীল কেরকেট্টার অভিষেক
বিগত ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে ডন বস্কোর সালেসিয়ান প্রদেশের রেক্টর মেজর ফাদার ফাবিও আত্তার্দ— ডন বস্কো কলকাতা প্রদেশের একাদশ তম নতুন প্রাদেশিক ফাদার সুনীল কেরকেট্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিষ্ঠিত করেন।
এই অনুষ্ঠানটি রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। ফাদার কেরকেট্টা, যিনি সাধারণ পরিষদের সম্মতিক্রমে ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রাদেশিক রূপে মনোনীত হন। এর মাধ্যমে তিনি কলকাতা প্রদেশের ১৮তম প্রাদেশিক হলেন। বর্তমানে এই প্রদেশে ২৬৩ জন ফাদার রয়েছেন; এবং ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল জুড়ে তাদের কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত রয়েছে ।
অধিষ্ঠাপন-উপদেশে রেক্টর মেজর ফাদার আত্তার্দ ডন বস্কোর মিশনের ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেন: “প্রাদেশিককে একাধারে পিতা, ভ্রাতা ও পথপ্রদর্শক হওয়ার আহ্বান জানান—যাতে ডন বস্কোর দেখানো পথ প্রতিটি সম্প্রদায় ও প্রেরণার মাধ্যমে জীবন্ত থাকে।”
ফাদার কেরকেট্টা তাঁর প্রতি অর্পিত আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রদেশের অন্যান্য ফাদারদের ও যুবসমাজের সঙ্গে একযোগে পথচলার অঙ্গীকার গ্রহণ করে বলেন: “নম্রতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি, কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হলো যুবসমাজের কাছে—বিশেষত সবচেয়ে প্রয়োজনীয়দের কাছে— আশার বাণী পৌঁছে দেওয়া।”
উল্লেখ্য ঝাড়খণ্ডের বির্তা গিরজাতোলি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ফাদার কেরকেট্টা সিমডেগা ধর্মপ্রদেশের লাচরাগড় ধর্মপল্লীর ধার্মিক ক্যাথলিক পিতামাতার সাত সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। তাঁর সালেসিয়ান যাত্রার শিকড় রাঁচির ডন বস্কো হাতিয়ায় ছাত্রজীবনে প্রোথিত। তিনি ডন বস্কো ব্যান্ডেল ও সালেসিয়ান কলেজ, সোনাডায় উচ্চশিক্ষা লাভ করে দর্শন ও কলা বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন; পরবর্তীতে পুনের এনভিএসসি থেকে কাউন্সেলিং ও আধ্যাত্মিক নির্দেশনায় ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
তিনি ১৯৯৪ সালে শিলিগুড়িতে প্রথম ব্রত, ২০০০ সালে লিলুয়ায় স্থায়ী ব্রত নেন এবং ২০০৩ সালে দ্য ব্যাসিলিকা অফ দ্য হোলি-রোসারি, ব্যান্ডেলে যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হন। বছরের পর বছর তিনি যুব অ্যানিমেটর, প্রি-নোভিশিয়েট পরিচালক, প্রশাসক, আহ্বান-প্রচারক (ভোকেশন প্রোমোটার) ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে সেবা দিয়েছেন। মনোনয়নের সময় তিনি ভাইস- প্রভিন্সিয়াল, ফরমেশন ডেলিগেট এবং সালেসিয়ান পরিবারের ডেলিগেট পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
ভারতে প্রথম সালেসিয়ান প্রদেশ হিসেবে ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা প্রদেশ আজ বাংলা, সিকিম, বিহার, বাংলাদেশ ও নেপালে ৪০টি স্থানে বিস্তৃত। এই প্রদেশ গুলিতে ৩২টি ধর্মপল্লী, ৩০টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫টি বোর্ডিং ও হোস্টেল, দুটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অসংখ্য সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগ, যুবকেন্দ্র ও ফরমেশন হাউস রয়েছে।
প্রতিবেদন তেরেসা রোজারিও
তথ্য - কলকাতা সালেসিয়ান