সিনোডালীয় প্রেরণায় অভাবীদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন ভিয়েতনামের পষ্টুল্যান্টগণ

গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিশ্ব প্রেরণ রবিবার, উপলক্ষে দক্ষিণ ভিয়েতনামের উপকূলীয় শহর ফান থিয়েটের সাও বিয়েন কমিউনিটিতে পবিত্র ক্রুশের প্রেমিক সংঘের পষ্টুল্যান্টগণ প্রার্থনা, পারস্পারিক সহভাগিতার মাধ্যমে অভাবগ্রস্ত মানুষের মাঝে ১০০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।  

সংঘের সিস্টার থেরেসা চি-এর পরিচালনায় ‘সিনোডাল মণ্ডলীতে বিবেচনা ও পরিচালনা’ বিষয়ের ওপর আলোচনা থেকে এই পরিকল্পনার সূচনা হয়।

আলোচনায় পষ্টুল্যান্টগণ একে অপরের কথা শোনেন এবং কীভাবে নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি পেরিয়ে অভাবী মানুষের কাছে খ্রিস্টের ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। পরে তাঁরা পবিত্র আত্মার পরিচালনা কামনা করে প্রার্থনা করেন এবং উপাসনালয়ে পবিত্র সাক্রামেন্তের আরাধনার মাধ্যমে আলোচনা শেষ করেন।

এরপর পষ্টুল্যান্টগণ ১০টি দলে বিভক্ত হন। প্রতিটি দলে দুজন করে সদস্য ছিলেন। তাঁরা যিশুর শিষ্যদের দুজন দুজন করে পাঠানোর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে শহরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অভাবী মানুষের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেন।

খাবার বিতরণের সময় মেরি নামের এক পষ্টুল্যান্ট একজন অখ্রিস্টান নারীর কাছে খাবার নিয়ে এগিয়ে যান। প্রথমে ওই নারী কিছুটা দ্বিধা বোধ করলেও মেরি তাঁকে বলেন, তিনি তাঁর জন্য প্রার্থনা করবেন। এতে নারীটি ধীরে ধীরে স্বস্তি বোধ করেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন।

সিস্টার থেরেসা বলেন, এই অভিজ্ঞতা পষ্টুল্যান্টদের বুঝতে সাহায্য করেছে যে, মিশনকাজের উদ্দেশ্য অন্যদের কোনো নির্দিষ্ট বিশ্বাস গ্রহণে প্ররোচিত করা নয়; বরং ভালোবাসা, সম্মান, দয়া ও আন্তরিকতার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

তিনি আরও বলেন, “সিনোডাল মণ্ডলী হলো এমন একটি মিশনারি মণ্ডলী, যা মানুষের কথা শোনে, একসঙ্গে পথ চলে এবং সেবার জন্য এগিয়ে যায়। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে পষ্টুল্যান্টগণ উপলব্ধি করেন, মনোযোগ দিয়ে শোনা থেকে সঠিক বিবেচনা, বিবেচনা থেকে কার্যকর উদ্যোগ এবং সেই উদ্যোগের মধ্য দিয়েই মিশনকাজের বাস্তব প্রকাশ ঘটে।  - আরভিএ সংবাদ।

 

Bengali pop up image