স্থানীয় গল্প তুলে ধরায় জোর আরভিএ-র জেনারেল ম্যানেজারের
স্থানীয় মানুষ, সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গল্প তুলে ধরতে ডিজিটাল মিডিয়াকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন রেডিও ভেরিতাস এশিয়ার (আরভিএ) জেনারেল ম্যানেজার ফাদার ফেলমার ফিয়েল, এসভিডি।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে, কেজন সিটির পোপ দ্বিতীয় জন পল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম এশীয় ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি অ্যাসেম্বলির “আন্ডারস্ট্যান্ডিং এশিয়া রিয়ালিটিজ” শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি ডিজিটাল গল্প বলার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে, অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি, যোগাযোগকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতারা অংশ নেন।
দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের ডিভাইন ওয়ার্ডের ধর্মপ্রচারক ফাদার ফেলমার জানান, ব্লগার ও রেডিও ব্রডকাস্টার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর ডিজিটাল গল্প বলার যাত্রা শুরু। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে ফিলিপাইনের সেবুতে, রেডিওর মাধ্যমে ধর্মপ্রচারে যুক্ত হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, রেডিও অনুষ্ঠানের বাইরেও মানুষের সঙ্গে সহভাগিতা করে নেওয়ার মতো অনেক গল্প রয়েছে। এরপর তিনি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে আরও মনোযোগ দেন।
বর্তমানে আরভিএ-র মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি তিনি সেবুয়ানো ভাষাতেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করেন। তাঁর সেবুয়ানো কনটেন্টে ফিলিপাইনের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং স্থানীয় মানুষের জীবনের নানা গল্প উঠে আসে।
ফাদার ফেলমারের মতে, ডিজিটাল ধর্মপ্রচার মানে শুধু ধর্মীয় বিষয়বস্তু তৈরি করা নয়। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলো খুঁজে বের করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সেগুলো বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, মানুষের নিজের ভাষা ও পরিচিত জীবনের গল্প তুলে ধরলে তারা মণ্ডলীর যোগাযোগের সঙ্গে নিজেদের আরও সহজে যুক্ত করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দর্শকের জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আলাদাভাবে ব্যবহার করা জরুরি। তাঁর ফেসবুকের কনটেন্ট শুধু ক্যাথলিকদের জন্য নয়; অ-ক্যাথলিক ও অন্যান্য ধর্মের মানুষের কাছেও তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য থাকে। অন্যদিকে, ইউটিউবের কনটেন্ট মূলত ক্যাথলিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়।
ফিলিপাইনের মতো ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে ভরা দেশে এই পদ্ধতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৭,০০০-এরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটিতে শত শত ভাষা ও স্বতন্ত্র আঞ্চলিক সংস্কৃতি রয়েছে। মিন্দানাও ও মধ্য ফিলিপাইনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত সেবুয়ানো ভাষায় গল্প বলার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আরও সহজে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফাদার ফেলমারের অভিজ্ঞতা এশিয়ার ডিজিটাল মিশনারিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরে - ডিজিটাল ধর্মপ্রচার শুরু হওয়া উচিত মানুষের কথা শোনা এবং তাদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত গল্প খুঁজে বের করার মধ্য দিয়ে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেই গল্পগুলোকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি ও মানবিক অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যও তুলে ধরতে পারে।
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে লক্ষ্য কেবল আরও বেশি ক্যাথলিক কনটেন্ট তৈরি করা নয়; বরং মণ্ডলী যাদের সেবা করে, সেই মানুষ ও সম্প্রদায়ের বাস্তব জীবনের গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বাসের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। অনুবাদ – অতনু দাস।
