খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে এক মুসলিম দোকানদার

আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই ২০২৬, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেডারেশন অব এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্সের (এফএবিসি) দ্বাদশ প্লেনারি সম্মেলন।

“এশিয়ান মণ্ডলীতে সিনোডাল রুপান্তর এবং পারস্পারিক ঐক্য  গড়ে তোলা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে সংলাপ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তবে এই প্রতিপাদ্যের বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকার মুসলিম দোকানদার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ  থেকে তিনি যিশু খ্রিস্ট, পবিত্র কুমারী মারীয়া , বিভিন্ন সাধুসাধ্বী এবং পোপের ছবিসহ খ্রিস্টীয় ধর্মীয় ছবি বিক্রি করে আসছেন। তেজগাঁও জপমালা গির্জার পাশে অবস্থিত তাঁর দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাথলিকদের কাছে ধর্মীয় সামগ্রী সংগ্রহের একটি নির্ভরযোগ্য স্থান।

রশিদ জানান, ব্যবসার মাধ্যমেই ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হলেও সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার বন্ধনে রূপ নিয়েছে। তাঁর দোকানে নিয়মিত পুরোহিত, সিস্টার, ব্রাদার ও সাধারণ বিশ্বাসীরা আসেন এবং তিনি কখনও এ কাজের জন্য নিজ সম্প্রদায়ের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হননি।

দীর্ঘদিনের ক্রেতা সুবীর গোমেজ বলেন, “মুসলিম হয়েও রশিদ খ্রিস্টানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, যার জন্য ক্যাথলিক সম্প্রদায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে মোহাম্মদ আবদুর রশিদের এই চার দশকের পথচলা প্রমাণ করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সম্প্রীতির দৃঢ় সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে।

আরো উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ এবং প্রায় ১৭ কোটি মানুষ এ দেশে বাস করে। এর মধ্যে ক্যাথলিক খ্রিস্টভক্তদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। মোহাম্মদ আবদুর রশিদ তার এই কাজের মধ্য দিয়ে সুদীর্ঘ বছর ধরে খ্রিস্টান  ক্যাথলিকদের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। এই কাজের মধ্য দিয়ে তিনি  খ্রিস্ট ধর্মের মানুষের সাথে প্রতিবেশীসুলভ দৈনন্দিন সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

তার এই কর্মক্ষেত্র বুঝিয়ে দেয় কীভাবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।– আরভিএ সংবাদ ।