এফএবিসি‘র দ্বাদশ প্লেনারি সম্নেলনের উদাত্ত আহ্বান ‘সেতু হও, সেতুবন্ধন গড়ে তোলো’

আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান বিশপ সম্মেলন ফেডারেশনের (এফএবিসি) দ্বাদশ প্লেনারি সম্নেলন।

“এশিয়ান মণ্ডলীতে সিনোডাল রুপান্তর এবং পারস্পারিক ঐক্য গড়ে তোলাপ্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনের উদাত্ত আহ্বান ‘সেতু হও, সেতুবন্ধন গড়ে তোলো।’ এই প্রতিপাদ্যের বাইবেলভিত্তিক অনুপ্রেরণা এসেছে যিশু খ্রিস্টের বাণী থেকে “এর চেয়ে মহত্তর কিছু দেখতে পাবে তুমি।” (যোহন :৫০)

উক্ত এই এফএবিসির মতে, ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এশিয়া বর্তমানে মৌলবাদ, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, দুর্নীতি, সহিংসতা, দরিদ্র ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই বাস্তবতায় সময়ের চিহ্নগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করে সাহসিকতার সঙ্গে তার প্রত্যুত্তর দেওয়া মণ্ডলীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আরো উল্লেখ্য যে, সম্মেলনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন একটি মণ্ডলী গড়ে তোলার ওপর, যা  পারস্পারিক বিভাজনের দেয়াল নয়, বরং মানুষের মধ্যে সংলাপ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন নির্মাণ করে। এফএবিসি মনে করে, সেতুবন্ধন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অন্তর্ভুক্তি ও সহযোগিতাকে শক্তিশালী করে, আর বিভাজনের দেয়াল মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে এবং বৈরিতা বাড়ায়।

পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস তাঁর “ইভানজেলি গাউদিয়া “এ আন্তধর্মীয় সংলাপকে বিশ্বশান্তির অপরিহার্য শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে পোপ লিও চতুর্দশ “ম্যাগনিফিকা হিউমানিতাস” সার্বজনীন পত্রে ভালোবাসার সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য পাঁচটি পথ নির্দেশ করেছেন । সত্য বলার মধ্য দিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা নিরস্ত করা, ন্যায়বিচারের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ভুক্তভোগীদের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ, বাস্তবতাকে সৎভাবে মূল্যায়ন এবং সংলাপকে পুনরুজ্জীবিত করা।

এফএবিসির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত ‘সেতু’ হওয়া মানে উন্মুক্ত মন নিয়ে অন্যের কথা শোনা, সহযোগিতা ও সংলাপকে এগিয়ে নেওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান নেওয়া এবং সুসমাচারের আশা ও ভালোবাসার বার্তা জীবনের মাধ্যমে প্রকাশ করা। এশিয়ার বর্তমান বাস্তবতায় এই আহ্বানই দ্বাদশ প্লেনারি সম্নেলনের অন্যতম প্রধান বার্তা।- আরভিএ সংবাদ ।