জার্কাতা মহাধর্মপ্রদেশ : এশিয়ার বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শান্তি ও সংলাপের বন্ধন গড়ে তুলছে
আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ান বিশপ সম্মেলন ফেডারেশনের (এফএবিসি) দ্বাদশ প্লেনারি সম্নেলন । এই সম্মেলনের আয়োজক জাকার্তা মহাধর্মপ্রদেশ এশিয়ায় সংলাপ, ঐক্য ও সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্যাথলিক মণ্ডলীর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে সুপরিচিত।
উল্লেখ্য ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জাকার্তা মহাধর্মপ্রদেশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে মঙ্গলসমাচারের বাণী অনুযায়ী সেবা কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এই কার্যক্রম আন্তধর্মীয় সংলাপ, সম্প্রীতি ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
জাকার্তা ক্যাথিড্রাল ও ইস্তিকলাল মসজিদের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং তাদের সংযুক্তকারী ‘টানেল অব ফ্রেন্ডশিপ’ (তেরোওঙ্গান সিলাতুরাহমি) শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে পোপ ফ্রান্সিসের ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় ইস্তিকলাল মসজিদে স্বাক্ষরিত ‘ইস্তিকলাল যৌথ ঘোষণা ২০২৪’ জাকার্তাকে আন্তধর্মীয় সংলাপের এক অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
বর্তমানে জাকার্তা, বেকাসি ও তাঙ্গেরাং অঞ্চলের অসংখ্য প্যারিশে শত শত যাজক, ধর্মীয় সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনী এবং হাজারো সাধারণ খ্রিস্টবিশ্বাসীর মাধ্যমে এই মহাধর্মপ্রদেশ তার সেবাকার্য পরিচালনা করছে। সিনোডাল চেতনার আলোকে দরিদ্র, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবার পাশাপাশি সংলাপ ও ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
“এশিয়ান মণ্ডলীতে সিনোডাল রুপান্তর এবং পারস্পারিক ঐক্য গড়ে তোলা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিতব্য এফএবিসির দ্বাদশ প্লেনারি সম্নেলনের আয়োজক হিসেবে জাকার্তা দীর্ঘদিনের সংলাপ, সেবা ও সম্প্রীতির অভিজ্ঞতা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। - আরভিএ সংবাদ ।