দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের ধানজুড়ি ধর্মপল্লীর শ্যামপুর গ্রামে উত্তম মেষপালক গির্জার উদ্বোধন ও আশীর্বাদ

শ্যামপুর গ্রামে নব নির্মিত উত্তম মেষপালক গির্জার উদ্বোধন ও আশীর্বাদ

গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের ধানজুড়ি ধর্মপল্লীর অন্তর্গত শ্যামপুর গ্রামে নব নির্মিত উত্তম মেষপালক গির্জার উদ্বোধন আশীর্বাদ করা হয়।

এই নতুন গির্জীকা উদ্বোধন আশীর্বাদ করেন দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের বিশপ সেবাস্তিয়ান টুডু এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ফাদার, সিস্টার এবং গ্রামের  খ্রিস্টভক্তগণ।

এই নতুন গির্জা আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের বিশেষ কয়েকটি দিকের মধ্যে ছিল; পবিত্র জল সিঞ্চন, ধূপনক্রিয়া, আলোক প্রজ্জ্বলনক্রিয়া প্রতিপালিকা প্রতিকৃতি স্থাপন।

পবিত্র খ্রীষ্টযাগের উপদেশ বাণীতে বিশপ বলেন, “এই গীর্জা কেবল প্রার্থনার স্থান নয়, বরং এটি হবে শান্তি, ভালোবাসা মানবিক মূল্যবোধ চর্চার কেন্দ্র।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: . জেড এম. জাহিদ হোসেন (সমাজ কল্যাণ এবং নারী শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় )

তিনি তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বাংলাদেশ সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ। এমন আয়োজন আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

ধানজুড়ি ধর্মপল্লীর শ্যামপুর গ্রামে উত্তম মেষপালক গির্জার উদ্বোধন ও আশীর্বাদ

তিনি নতুন এই গীর্জাঘরের উদ্বোধনে অংশ নিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করেন ধানজুড়ী মিশনের পাল পুরোহিত  ফাদার ম্যানুয়েল হেম্ব্রম। ফাদার হেম্ব্রম বলেন, আমরা সবাই মিলে এই নতুন গির্জার যত্ন নিবো এবং প্রতিদিন ঈশ্বরের মন্দিরে এসে প্রার্থনা করব, যেন আমরা সবাই আলোর পথে চলতে পারি।

উত্তম মেষপালকনামটি যোহন সুসমাচার থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে যিশুখ্রিষ্ট নিজেকে উত্তম মেষপালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, যিনি তাঁর মেষদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। এই নামে গীর্জা প্রতিষ্ঠা তাই স্থানীয় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের আত্মিক পরিচয়ের একটি গভীর ঘোষণা।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গীর্জা প্রাঙ্গণে শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রার্থনা মিলনমেলার আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে গভীর আনন্দ সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

গ্রামের একজন খ্রিস্টভক্ত তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা গ্রামবাসী সবাই আজ অনেক আনন্দিত এই নতুন গির্জা পেয়ে, এখন থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েরা গির্জামুখি হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

শ্যামপুর গ্রামের ক্যাথলিক মন্ডলীর এই ঐতিহাসিক আয়োজন স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক স্মরণীয় আশীর্বাদের বিশেষ দিন হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।