সিনোডাল খ্রিস্টমণ্ডলী গঠনে সাধারণ ধর্মবিশ্বাসীদের নেতৃত্ব জোরদারের আহ্বান
গত ২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার হোটেল মুলিয়ায় অনুষ্ঠিত এফএবিসির ১২তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এফএবিসির সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী ও পরিবার বিষয়ক দপ্তর (Office of Laity and the Family-OLF) এশিয়ার মণ্ডলীর মিশনে পরিবার, নারী, যুবসমাজ ও সাধারণ বিশ্বাসীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
দপ্তরের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের বরিশাল ধর্মপ্রদেশের বিশপ ইমানুয়েল কে. রোজারিও এবং নির্বাহী সম্পাদক মোমোকো নিশিমুরা, এসইএমডি, দপ্তরের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, এশিয়ার মণ্ডলীর ভবিষ্যৎ শুধু বিশপ, যাজক ও ধর্মীয়দের ওপর নির্ভর করে না; বরং পরিবার, ধর্মপল্লী ও সমাজে সাধারণ বিশ্বাসীদের সক্রিয় সাক্ষ্য ও নেতৃত্বের ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনোডাল রূপান্তর কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়; বরং বিশ্বাসের পথে একসঙ্গে চলার মধ্য দিয়েই শুরু হয়। এ লক্ষ্যে পরিবার, নারী, যুবসমাজ, সাধারণ বিশ্বাসী এবং ক্ষুদ্র খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়কে (Basic Ecclesial Communities-BECs) মণ্ডলীর মিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দপ্তরের অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে ২০২৩ সালের এফএবিসি ব্যাংকক দলিল অনুসরণে বিবাহিত জীবনের প্রস্তুতি বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিবাহের প্রস্তুতি শুধু বিয়ের আগের শিক্ষা নয়; বরং দাম্পত্য জীবনের পুরো পথচলায় দম্পতিদের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে তাদের সুসমাচারের স্থায়ী সাক্ষী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়া ‘আজকের এশিয়ায় খ্রিস্টীয় পরিবারের মিশন’ শীর্ষক সিনোডাল সমাবেশের মাধ্যমে অভিবাসন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পরিবর্তিত সামাজিক মূল্যবোধ এবং আন্তঃধর্মীয় বাস্তবতার মুখোমুখি পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা শোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোকে কেবল পালকীয় সেবার গ্রহীতা নয়, বরং সুসমাচার প্রচারের সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে নারীদের মণ্ডলীর নেতৃত্ব, পালকীয় সেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত এফএবিসি যুব সেমিনারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে যুবসমাজকে বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও ডিজিটাল জগতে সুসমাচারের সাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরিবার ও পরিবেশের সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পায়। এতে বলা হয়, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পরিবার থেকেই শুরু হয়। তাই সরল জীবনযাপন, সংহতি এবং সৃষ্টিজগতের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে সমন্বিত পরিবেশচর্চায় এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিবেদনের শেষে এশিয়ার স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন সাধারণ বিশ্বাসীদের কেবল সহযোগী হিসেবে নয়, বরং মণ্ডলীর মিশনের সহ-দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, এশিয়ার মণ্ডলীর ভবিষ্যৎ শুধু ধর্মপ্রদেশ বা প্রতিষ্ঠানে নয়; বরং পরিবার, ক্ষুদ্র খ্রিস্টীয় সম্প্রদায় এবং ধর্মপল্লীতে প্রতিদিন সুসমাচারের জীবনচর্চার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে।
