কার্ডিনাল গ্রাসিয়াস এফএবিসি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধনী গণপ্রার্থনায় সভাপতিত্ব করে বলেন, সিনোডালিটি বিশ্বের প্রতিটি খ্রীস্ট মণ্ডলীর উপহার l
পোপ চতুর্দশ লিও-র দূত কার্ডিনাল অসওয়াল্ড গ্রাসিয়াস ২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে, এশীয় বিশপ সম্মেলন ফেডারেশনের (FABC) দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধন করেন। তিনি সিনোডালিটিকে "বিশ্বের প্রতিটি খ্রীস্ট মণ্ডলীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার" হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এশিয়ার মণ্ডলীগুলোকে - সংলাপ, পুনর্মিলন ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে শান্তির নির্মাতা হওয়ার আহ্বান জানান।
জাকার্তার হোটেল মুলিয়ার ২ ও ৩ নম্বর বলরুমে সকাল ৯ টায় উদ্বোধনী ইউক্যারিস্টিক উদযাপনে সভাপতিত্ব করে কার্ডিনাল গ্রাসিয়াস বলেন, "গির্জার লক্ষ্য হল মানুষকে একত্রিত করা, পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করা এবং শান্তির মাধ্যম হয়ে ওঠা।"
তিনি তাঁর ধর্মোপদেশে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল সেতুবন্ধনকারী হওয়া। মণ্ডলীকে সেতু নির্মাণের জন্য আহ্বান করা হয়েছে।”
উদ্বোধনী উপাসনা পদ্ধতিতে সেই বৈচিত্র্য প্রতিফলিত হয়, যেখানে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বৃহত্তর এশীয় চার্চের প্রতিনিধিত্বকারী প্রার্থনাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কার্ডিনাল গ্রাসিয়াসের সাথে প্রধান সহ-যাজক হিসেবে বেদীতে যোগ দেন হংকংয়ের কার্ডিনাল স্টিফেন চাও সাউ-ইয়ান এবং তিমুর-লেস্তের কার্ডিনাল ভার্জিলিও দো কারমো দা সিলভা। এছাড়া সপ্তাহব্যাপী এই সমাবেশে এশিয়া জুড়ে আগত শতাধিক কার্ডিনাল, বিশপ, যাজক, ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবেশ শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার সাথে সাথে, ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত পুরুষ ও মহিলারা - যাদের মধ্যে নিয়াস, বাটাকে এবং মিনাংকাবাউ সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছিলেন l বিশপ ও প্রতিনিধিদের সমাবেশ কক্ষে তাদের স্বাগত জানানো হয় l এই সাংস্কৃতিক অভ্যর্থনা ইন্দোনেশিয়ার সমৃদ্ধ জাতিগত ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি আয়োজক মণ্ডলীর আতিথেয়তাও প্রকাশ করে।
খ্রীস্ট বিশ্বাসীদের প্রার্থনা এশিয়ার বৈচিত্র্যকে আরও প্রতিফলিত করেছিল, যেখানে জাভানিজ, মেনতাওয়াই, ম্যান্ডারিন চাইনিজ, বোর্নিওর বেনাওয়াস দায়াক এবং পূর্ব নুসা তেঙ্গারার সুম্বানিজ সহ বিভিন্ন ভাষায় আবেদন জানানো হয়েছিল। এই বহুভাষিক মধ্যস্থতা মহাদেশের বহু জাতি, সংস্কৃতি এবং ভাষার মাঝে মণ্ডলীর ঐক্যকে তুলে ধরেছিল।
এই উদযাপনের আরেকটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল ‘সাধু - স্বাধীদের স্তবগান’, যেখানে সমগ্র এশিয়ার সাধু ব্যক্তিদের ও পুণ্যবান নারীদের আহ্বান করা হয়েছিল। চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, হংকং, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, লাওস এবং আফগানিস্তানের সাধুদের মধ্যস্থতায় সমবেত জনতা প্রার্থনা করেন, যা এই মহাদেশের সমৃদ্ধ খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
কার্ডিনাল গ্রাসিয়াস তাঁর ধর্মোপদেশে অংশগ্রহণকারীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, এফএবিসি এই সমাবেশটি নিছক একটি প্রাতিষ্ঠানিক সভা নয়। তিনি বলেন, এটি এশিয়ার স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর জন্য সমসাময়িক লক্ষণগুলো অনুধাবন করার এবং সুসমাচার প্রচারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার নবায়ন করার একটি সুযোগ।
এফএবিসি-র পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের দিকে ফিরে তাকালে, তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খ্রীস্ট মণ্ডলীর জন্য অন্যতম নির্ধারক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারীর কথা স্মরণ করেন। যদিও এই সংকট এশিয়া মহাদেশ জুড়ে দুর্ভোগ বয়ে এনেছিল, তবে এটি এশিয়ার মণ্ডলীগুলির সহনশীলতা, সংহতি এবং সম্মিলিত চেতনাকেও প্রকাশ করেছে।
কার্ডিনাল আরও বলেন, যুদ্ধ ও সহিংসতা আজকের দিনে মানবজাতির মুখোমুখি হওয়া অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। তিনি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে পোপ ফ্রান্সিসের ‘খণ্ডিত ভাবে পরিচালিত একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনার কথাও স্মরণ করেন।
তিনি সিনোডালিটিকে খ্রীস্ট মণ্ডলী ও সমাজ উভয়ের জন্যই একটি উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পারিবারিক জীবন, সাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে একত্রে চলার চেতনা দীর্ঘকাল ধরে এশীয় সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন যে, শোনা, অংশগ্রহণতা, উন্মুক্ততা এবং যৌথ দায়িত্বের মতো সিনোডাল মূল্যবোধগুলো এশিয়ার অনেক দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এবং দুর্নীতি মোকাবিলাতে অবদান রাখতে পারে।
প্রার্থনা সভার সমাপ্তিতে কার্ডিনাল গ্রাসিয়াস প্রতিনিধিদের সমগ্র এশিয়া মহাদেশে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন ও সৃজনশীল উপায় অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করেন।
"ঈশ্বর এফএবিসি-কে আশীর্বাদ করুন। ঈশ্বর এশিয়াকে আশীর্বাদ করুন," তিনি বলেন। প্রতিবেদন - গ্যাব্রিয়েল আবদি সুসান্তো। অনুবাদ - অতনু দাস l
