চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হলো যুব দিবস

চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের যুব কমশিনরে আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো যুব দিবস

গত ২৬ থেকে ৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের যুব কমশিনরে আয়োজনে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হলো যুব দিবস।

এবারের যুব দিবসের মূলসুর ছিল “তোমরা আমরা সাক্ষী হবে কারণ তোমরা আমার সাথেই রয়েছ”। এতে ১১টি ধর্মপল্লী ও ২টি কোয়াজি ধর্মপল্লী থেকে আগত প্রায় ১১৮জন যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করনে।

প্রার্থনা, আধ্যাত্নিক চর্চা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে যুবারা তাদের বিশ্বাসকে নবায়ন করার সুযোগ লাভ করেন।

চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের এই যুব দিবস আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বাস, সাক্ষ্য ও ঐক্যরে এক মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানরে প্রথম দিন ছিল যুব ক্রুশ স্থাপন ও উদ্বোধনী খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে যুব দিবসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়। উদ্বোধনী খ্রিস্টযাগ উৎর্সগ করনে চট্টগ্রামের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুব সমন্বয়কারী ফাদার বিকাশ রিবেরু সিএসসি, চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের যুব সমন্বয়কারী ফাদার জয় যোসেফ কুইয়া এবং মহাধর্মপ্রদেশের সহ যুব সমন্বয়কারী ফ্লেভিয়ান ডি কস্তা।

যুব ক্রুশ স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন মহাধর্মপ্রদেশের হেড অব প্রোগ্রামস এন্ড ডেভলেপমেন্ট মিকি পল গণসালভেস। তিনি প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে যুব দিবসের উদ্বোধন ঘোষনা করনে। এদনি নবধারা’র প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন ও টি-র্শাট  উন্মোচন করা হয়।

জাতীয় যুব সমন্বয়কারী ফাদার বিকাশ রিবেরু সিএসসি, মূলসুরের উপর যুবাদের সাথে সহভাগিতা করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ক্যাথলিক আর্চডাইয়োসিসের শতবর্ষের পথচলা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে সহভাগিতা করেন মি. মিকি পল গণসালভেছ, হেড অব প্রোগ্রামস এন্ড ডেভেলপমেন্ট, চট্টগ্রাম কাথলিক আর্চডাইয়োসিস।

এরপর তাঁর সহভাগিতার উপর বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্যানেল আলোচনায় ডাইয়োসিসের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং যুবকদের ভূমিকা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

যুবকদের আত্মিক জীবন ও প্রভুর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। দিনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল “ক্যাথলিক বিশ্বাসে মা মারীয়া ও জপমালার শক্তি এবং পরিবারের যুবাদের দায়িত্ব” বিষয়ক সহভাগিতা, যা অংশগ্রহণকারীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

অন্যদিকে অংশগ্রহণকারীরা বান্দরবানের বিভিন্ন পাড়া ও স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর জীবন যাপন পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের সুযোগ লাভ করেন। এর মাধ্যমে তারা স্থানীয় সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা এবং বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হন। সন্ধ্যায় পবিত্র ক্রুশের আরাধনা অংশগ্রহণকারীদের প্রার্থনা ও ধ্যানমগ্নতার পরিবেশে একত্রিত করে।

যুব দিবসে অংশগ্রহণকারীগণ

বিসিএসএম, চট্টগ্রাম’র পরিবেশ বিষয়ক সৃজনশীল প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনের শুরু হয়। এরপর উপসনায় আমাদের অংশগ্রহণ ও উপসনার গান শেখানো হয়। “লক্ষ্য হোক আকাশ ছোঁয়ার” শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় যুবকদের স্বপ্ন, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।

বিকেলে বাইবেল স্টাডির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ঈশ্বরের বাক্যের আলোকে নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে সমাপনী খ্রিষ্টযাগ এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়।

সমাপনী খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার টেরেন্স রড্রিক্স, ভিকার জেনারেল, চট্টগ্রাম কাথলিক আর্চডাইয়োসিস। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যুবকদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার এক মনোমুগ্ধকর প্রকাশ ঘটায়।

এ যুব দিবসে অংশগ্রহণকারী যুবকদের মধ্যে বিশ্বাস, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ এবং মণ্ডলীর প্রতি অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রার্থনা, শিক্ষা ও ভ্রাতৃত্বের এই মিলনমেলা যুবকদের মনে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে, যাতে তারা নিজ নিজ পরিবার, ধর্মপল্লী ও সমাজে খ্রিষ্টের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে উঠতে পারে। - ফ্লেভিয়ান ডি কস্তা