এফএবিসি: এশিয়ায় নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন ‘সিনোডাল আধ্যাত্মিকতা’
গত ২০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এফএবিসি‘র দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে এশিয়ার বিশপগণ বলেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান নৈতিক অবক্ষয় রোধে ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সমস্যার সন্মুখীন সমস্যাগুলো নিয়ে তারা গভীরভাবে চিন্তা ও বিবেচনা করবেন।
এফএবিসির সহ-সভাপতি ও সিনোডালিটি কমিশনের চেয়ারম্যান ফিলিপাইনের কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও ডেভিড বলেন, “মণ্ডলীর সকল কর্মপরিকল্পনা সফল করতে যাজক ও সাধারণ বিশ্বাসীদের মধ্যে সহ-দায়িত্ব (co-responsibility) গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যাজক ও সাধারণ বিশ্বাসী সবাই মর্যাদায় সমান তবে যাজকরা সাধারণ বিশ্বাসীদের চেয়ে মণ্ডলী বিষয়ক শিক্ষায় আরো জ্ঞান অর্জন করেন।”
এফএবিসির সভাপতি ভারতের কার্ডিনাল ফিলিপে নেরি ফেরাঁও বলেন,“ সিনোডালিটি কোনো কৌশল নয়, বরং বাপ্তিস্মভিত্তিক এক আধ্যাত্মিক জীবনধারা, যেখানে সবাই সমান মর্যাদার অংশীদার। তিনি জানান, ভারতে এই ভাবনা বাস্তবায়নে নতুন পালকীয় পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।”
কার্ডিনাল ডেভিড আরও বলেন, “বিশ্বাসের চর্চা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করা এফএবিসির অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচক (CPI) অনুযায়ী, এশিয়ার ৩১টি দেশের মধ্যে ২১টির অবস্থান বৈশ্বিক গড়ের নিচে; এর মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াও রয়েছে।
"সিনোডাল রূপান্তরের আহ্বান এবং এশিয়ায় সেতু ও সেতুবন্ধনকারী হওয়ার মিশন"এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এফএবিসির ১২তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষে এশিয়ায় সিনোডাল জীবন ও মণ্ডলীর জন্য একটি চূড়ান্ত দিকনির্দেশনামূলক দলিল (Final Document) প্রকাশ করা হবে। - আরভিএ সংবাদ।
