জাকার্তায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্স এর প্রতিনিধিরা, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্বেচ্ছাসেবীরা

এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্স এর প্রতিনিধিরা, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্বেচ্ছাসেবীরা

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ২০ জুলাই থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে কার্ডিনাল, বিশপ, পুরোহিত, ধর্মীয় জীবন উৎসর্গকারী নারী-পুরুষ এবং সাধারণ খ্রীষ্টবিশ্বাসী প্রতিনিধিরা পৌঁছাতে শুরু করেছেন। ২১–২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্স (FABC)-এর ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলি উপলক্ষে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী বিমানবন্দর থেকে প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা, যাতায়াত, নিবন্ধন এবং আবাসনের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।

ভোর থেকেই স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মহাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত প্রতিনিধিদের তারা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। বিমানের সময়সূচি পর্যবেক্ষণ, পরিচয়পত্র যাচাই এবং প্রতিনিধিদের নিরাপদে অ্যাসেম্বলির গন্তব্যে ও মুলিয়া হোটেল জাকার্তায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

হোটেলে আরেকটি দল নিবন্ধনকেন্দ্রে প্রতিনিধিদের অ্যাক্রেডিটেশন ব্যাজ, সম্মেলনের তথ্যপত্র এবং কর্মসূচি প্রদান করে। পাশাপাশি চেক-ইন, লাগেজ বহন এবং দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পর প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা লাইভ-স্ট্রিমিং ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। লিটার্জি কমিটি খ্রীষ্টযাগ উদযাপনের প্রস্তুতি শেষ করে এবং যোগাযোগ, চিকিৎসা, আতিথেয়তা ও কারিগরি দল উদ্বোধনের আগে সব ধরনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে।

স্থানীয় আয়োজক কমিটির সম্পাদক ফাদার ফ্রান্স ক্রিস্টি আদি প্রাসেত্যা বলেন, প্রতিনিধিদের আগমন কেবল একটি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি আরও গভীর একটি অভিজ্ঞতার সূচনা।

তিনি বলেন, “প্রতিনিধিরা যখন এশিয়ার মন্ডলীগুলির বিভিন্ন প্রতিকূলতা নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা-ভাবনা করতে বৈঠককক্ষে প্রবেশ করবেন, তার আগে আমরা চাই তারা যেন প্রথমেই অনুভব করেন—তারা ভাই ও বোন হিসেবে একে অপরের কাছে আন্তরিকভাবে গ্রহণযোগ্য।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই অভ্যর্থনার প্রতিটি আয়োজন কেবল আরাম জন্য নয়; বরং একটি সিনোডাল চার্চের চেতনাকে প্রকাশ করার জন্য—যে মন্ডলী একসঙ্গে পথচলা বিশ্বাস করে।”

এই আয়োজন সফল করতে কয়েক মাস ধরে গির্জার স্বেচ্ছাসেবী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ, পরিবহন সংস্থা, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় করা হয়েছে। দিনভর পরিবর্তিত ফ্লাইট সূচি, নতুন নিবন্ধন এবং পরিবহন ব্যবস্থাও নিয়মিত সমন্বয় করা হয়।

ফাদার প্রাসেত্যা বলেন, “FABC প্লেনারি অ্যাসেম্বলির সাফল্য কোনো একটি দলের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে না; বরং  ঈশ্বরের আশীর্বাদিত সকল সন্তানদের কর্মফলের প্রয়াস সাধারণ খ্রীষ্টবিশ্বাসী, ধর্মীয় জীবন উৎসর্গকারী নারী-পুরুষ, পুরোহিত, বিশপ, স্বেচ্ছাসেবী এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ —সকলেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে এশিয়ার মন্ডলীগুলির সেবায় একসঙ্গে কাজ করছেন।”

প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা লিয়াজোঁ অফিসার হিলারি অ্যারিস্টোটেল বলেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজনের অংশ হতে পারা এবং লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য সত্যিই এক বিশেষ সম্মানের বিষয়।”

তিনি জানান, প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধির সেবা দিতে নিরাপত্তা, পরিবহন, আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা দলের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বে থাকা প্রতিটি দল একটি অভিন্ন লক্ষ্য পূরণে একযোগে কাজ করছে।

দিন শেষে অধিকাংশ প্রতিনিধি মুলিয়া হোটেলে পৌঁছে নিজ নিজ কক্ষে পৌঁছান। একই সময়ে আয়োজক দল পরবর্তী দিনের আগমনসূচি পর্যালোচনা এবং উদ্বোধনী অধিবেশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।

ইন্দোনেশিয়ার ক্যাথলিক মন্ডলীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত FABC-এর ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মন্ডলীগুলির ধর্মীয় নেতাদের একত্রিত করেছে। "Synodal Conversion" এবং এশিয়ায় সেতুবন্ধন নির্মাণে মন্ডলীর মিশনএই মূল ভাবনাকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী এই সমাবেশে প্রার্থনা, সংলাপ ও সম্মিলিত বিবেচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

প্রতিবেদন: গ্যাব্রিয়েল আবদি সুসান্তো

অনুলিখন তেরেসা রোজারিও

Bengali pop up image