ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন এশিয়ার ধর্মীয় নেতৃত্বদের 'ভালোবাসার ভাষায়' কথা বলতে।
ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী নাসারুদ্দিন উমর এশিয়া জুড়ে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে সংঘাত নিরসন ও শান্তি শক্তিশালীকরণের পথ হিসেবে 'ভালোবাসার ভাষা' গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ধর্মকে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের শক্তি হতে হবে।
বিগত ২১জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে, জাকার্তার হোটেল মুলিয়ায় ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস কনফারেন্সেস (এফএবিসি)-র দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উমর বলেন, এই সমাবেশটি ক্যাথলিক ধর্মের একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকের চেয়েও বেশি কিছু। বরং, তিনি এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংহতি জোরদার করা এবং এশিয়ার জন্য আরও ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ার একটি যৌথ অঙ্গীকার হিসেবে বর্ণনা করেন।
এশিয়া মহাদেশজুড়ে আগত কার্ডিনাল, বিশপ, যাজক, ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, "এই সমাবেশটি শান্তি লালন, জনগণের মধ্যে সংহতি জোরদার এবং এশিয়ার জন্য আরও শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ভবিষ্যৎ গড়ার আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ।"
নাসারউদ্দিন বলেছেন, এশিয়ার সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য একাধারে শক্তি এবং দায়িত্ব। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মহাদেশ সশস্ত্র সংঘাত, সামাজিক মেরুকরণ, ধর্মীয় চরমপন্থা, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিসহ নানা জটিল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
তিনি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, ধর্মের ভাষায়—ভালোবাসার ভাষায়—দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্যের সমাধান করা সম্ভব। ভালোবাসা সহানুভূতি, সমবেদনা এবং ঘৃণার জন্ম না দিয়ে ভিন্নতাকে গ্রহণ করার ক্ষমতা শেখায়।"
মন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যেন ঐক্য, সংলাপ ও মীমাংসার উৎস হিসেবে থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ধর্মীয় নেতাদের রয়েছে।
তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার কথা উল্লেখ করেন। ১৭,০০০-এরও বেশি দ্বীপ, শত শত জাতিগোষ্ঠী এবং একাধিক ধর্মীয় ঐতিহ্যের আবাসস্থল এই দেশটি বৈচিত্র্যকে জাতীয় শক্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে।
সেই অঙ্গীকারের উদাহরণ হিসেবে নাসারউদ্দিন প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস ও মুসলিম নেতাদের দ্বারা ২০২৪ সালে ইস্তিকলাল ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর এবং জাকার্তার ইস্তিকলাল মসজিদ ও আওয়ার লেডি অফ দ্য অ্যাজাম্পশন ক্যাথেড্রালকে সংযোগকারী ‘বন্ধুত্বের সুড়ঙ্গ’ নির্মাণের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, "ইন্দোনেশিয়া বিশ্বকে দেখাতে চায় যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা যায় এবং তা যৌথ শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে।"
এফএবিসি সমাবেশের মূলভাব, "সিনোডাল রূপান্তরের আহ্বান এবং এশিয়ায় সেতু ও সেতু-নির্মাতা হওয়ার মিশন"-এর প্রসঙ্গে নাসারউদ্দিন বলেন, সিনোডালিটির ওপর চার্চের গুরুত্বারোপ ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের মুশাওয়ারা (বিবেচনামূলক ঐকমত্য) এবং গোটং রয়োং (পারস্পরিক সহযোগিতা) ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা উভয়ই সাধারণ মঙ্গলের জন্য সংলাপ, অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমাবেশ আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে আরও গভীর করবে, মানবিক সহযোগিতা জোরদার করবে এবং এশিয়া জুড়ে শান্তির জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
"জাকার্তা শান্তির নতুন ধারণার জন্মস্থল হয়ে উঠুক। এই সমাবেশ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করুক এবং এশিয়া বিশ্বকে দেখিয়ে যাক যে বৈচিত্র্যই শক্তির উৎস, বিভেদের নয়," তিনি বলেন।
এরপর নাসারউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বাদশ এফএবিসি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রতিবেদন - আমাদিয়া প্রাণাস্তিতি l অনুবাদ - অতনু দাস
