আরএনডিএম সিস্টারদের নব নির্মিত নভিশিয়েট উদ্বোধন ও আর্শীবাদ অনুষ্ঠান
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বাংলাদেশের আরএনডিএম বা (Our Lady of the Missions) বাংলাদেশ প্রভিন্স সিস্টারদের নব নির্মিত নভিশিয়েট ভাদুনে উদ্বোধন ও আর্শীবাদ করা হয়।এই নভিশিয়েটের নাম করন করা হয় “আরএনডিএম নভিশিয়েট দীপালয়।”
উক্ত এই অনুষ্ঠানে পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন ডি ক্রুজ। এছাড়া অন্যান্য ধর্মপল্লী থেকে ফাদারগণ উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র খ্রিস্টযাগের পূর্বে বাংলাদেশ প্রভিন্সের কাউন্সিলর সিস্টার সঙ্গীতা গ্লোরিয়া শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। এবং সিস্টার সাথী কস্তা নভিস পরিচালিকা নভিশিয়েটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন। এরপরে পবিত্র জলে নভিশিয়েটে ভবন আর্শীবাদ করেন বিশপ ক্রুজ।
খ্রিস্টযাগের বিশপ তার উপদেশ বাণীতে বলেন “ নভিশিয়েট হলো আহব্বান জীবনের প্রার্থনা পূর্ণ পবিত্র স্থান। যেখান থেকে আহব্বান জীবনকে পরিপূর্নভাবে গঠন করা যায়। আজ থেকে এই নভিশিয়েটে যারা থাকবে তারা যেন এই গঠনগৃহ থেকে ঈশ্বরের ভালোবাসায় পরিপূরনতা লাভ করতে পারে।
তিনি আরো বলেন ধর্মপ্রদেশীয় গঠনগৃহ গুলো আমাদের হৃদপিন্ডের মতো কাজ করে যেখান থেকে আমাদের জীবন সঞ্চারিত হয়। জীবনে আধ্যাত্নিকতা নিয়ে ধ্যান করার একটা স্থান। আর এটা যদি শক্তিশালী না হয় তবে আমাদের আস্তে আস্তে মৃত্যু গঠবে।
খিষ্টকে গভীরভাবে জানতে হলে মঙ্গলবাণী প্রচার কাজে আমাদের আরো মনোনিবেশ করা দরকার। এছাড়া সম্প্রদায়ের ক্যারিজম অনুযায়ী অর্থাৎ প্রতিষ্ঠাত্রীর প্রেরণা ও সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট অনুসারে প্রৈরিতিক কাজ করা। বলেন বিশপ ক্রুজ।
উল্লেখ্য , প্রতিষ্ঠাত্রী ইউফ্রেজী ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো বঙ্গের চট্টগ্রামে আগমন করেন। ১৮৮৬ থেকেই তিনি আর্ন্তজাতিক ভাবে এই নভিশিয়েট গঠন করেন। সেই সময়ে সংঘের তিনটি নভিশিয়েটের মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয়তম নভিশিয়েট হিসেবে পরিগনণত ছিলো। তবে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধের কারনে আন্তর্জাতিক নভিশিয়েট থেকে শুধু দেশীয় ভাবে অর্থাৎ সেই ১৮৮৬ থেকে ২০২৬ পযর্ন্ত নভিশিয়েটের কার্যক্রম চট্টগ্রামেই চলমান ছিলো ।
তবে সময়ের পরিক্রমায় বা সংঘ ও প্রদেশের বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী আজ এই নভিশিয়েট চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার ভাদুনে স্থানান্তরিত হয়েছে। নতুন স্থানে স্থানান্তর আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে গঠন-জীবনের চেতনা,পরিবেশ ও কাঠামোকে নতুনভাবে সজীব ও নবায়িত করার একটি সুযোগ প্রদান করে।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রদেশ পরিচালিকা সিস্টার শিউলী ক্যাথরিন গমেজ মাহেন্দ্রক্ষনে সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য এবং সকল প্রকার সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেই সাথে সকলের কাছে এই নভিশিয়েটের জন্য মঙ্গল আর্শীবাদ কামনা করেন। উক্ত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫৩ জন সিস্টার এবং প্রায় ১৫০ জনের মতো স্থানীয় খ্রিস্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন। - আরভিএ সংবাদ।
