বারোমারী সাধু লিও’র ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ফাতেমা রাণীর মা মারীয়ার তীর্থোৎসব

বারোমারী সাধু লিও’র ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ফাতেমা রাণীর মা মারীয়ার তীর্থোৎসব

গত ২৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত বারোমারী সাধু লিও’র ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ফাতেমা রাণীর মা মারীয়ার তীর্থোৎসব।

এই বছর মা মারিয়ার তীর্থোৎসবের মূলসুর ছিল, “মানবতার জননী ফাতেমা রাণী মা মারিয়া”। এতে  বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত হাজার হাজার তীর্থযাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারত সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ২৯তম বার্ষিক ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব।

তীর্থোৎসবের আগের দিন রাতে ছিলো মোমবাতি প্রজ্জ্বালন ও আলোক শোভাযাত্রা। তীর্থযাত্রীদের কণ্ঠে মা মারিয়ার স্তুতিগান এবং বিশেষ প্রার্থনায় উৎসবস্থলে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও প্রার্থনা ও আত্মিক শুদ্ধতার প্রত্যাশা নিয়ে হাজারো ভক্ত মোমবাতি হাতে পাহাড়ি ক্রুশের পথে অংশ নেন।

এ বছর তীর্থোৎসবের মহাখ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ পনেন পল কুবি, সিএসসি। তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে এই খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন।

তিনি আরও বলেন, “এ তীর্থোৎসবের মধ্যদিয়ে মা মারিয়ার জীবন ও আদর্শ খ্রিস্টভক্তদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তার আদর্শ অনুসরণ করে যিশু খ্রিস্টের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য নিয়ে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।”

বারোমারী সাধু লিও’র ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ফাতেমা রাণীর মা মারীয়ার তীর্থোৎসব

তীর্থোৎসবে আসা একজন মারিয়া ভক্তা বলেন, “মনের একটি ইচ্ছা পূরণের আশায় আগে এই তীর্থস্থানে মানত করেছিলেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এবার বারোমারীতে এসে মা মারিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। নিজের মনোবাসনা পূরণ হওয়ায় আমি আনন্দিত।”

বারোমারী ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ও তীর্থ আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেন, “সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি এবারের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা ধর্মপল্লীবাসী অনেক আনন্দিত। কারণ অনুকূল পরিবেশে ধর্মীয় মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুরো আয়োজন শেষ করা সম্ভব হয়েছে। তাই ঈশ্বরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।”

দুই দিনব্যাপী এই মহোৎসবে পুণ্যার্থীদের পাপ স্বীকার, সাক্রামেন্তের আরাধনা, বিশেষ নিরাময় প্রার্থনা এবং নিশিজাগরণের মতো নানা ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হয়। দেশ ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে মা মারিয়ার পাদদেশে বিশেষ প্রার্থনা পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সাল থেকে পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে গড়া শেরপুরের এই মনোরম পাহাড়ি তীর্থস্থানটিতে প্রতি বছরের অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বার্ষিক ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। - আরভিএ সংবাদ

Bengali pop up image