ম্যানিলার ডিজিটাল মিশনারি সমাবেশে প্রধান আকর্ষণ এশীয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য
বিগত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে, ম্যানিলার কেজন সিটিতে প্রথম এশীয় ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি সমাবেশের উদ্বোধনীর দিনে এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিশেষভাবে উঠে আসে। রেডিও ভেরিতাস এশিয়া (RVA) ক্যাম্পাসের পোপ জন পল দ্বিতীয় অডিটোরিয়ামে শতাধিক প্রতিনিধি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন, যেখানে ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।
১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এই সমাবেশের মূল বিষয় “প্রভাবশালী থেকে সাক্ষী: এশিয়ায় ডিজিটাল মিশনের জন্য সিনোডাল পথ”। আরভিএ (RVA) এবং এফ এ বি সি অফিস অফ সোসাল কমিউনিকেশন (FABC Office of Social Communication)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি, যোগাযোগকর্মী ও প্রভাবশালীরা ডিজিটাল মিশন, গঠন, সহযোগিতা ও ধর্মপ্রচার নিয়ে আলোচনা করছেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রথম পর্বে ইন্সিটিউট অফ ফর্মেশন ফন্ডাসিও এশিয়া (IFFAsia)-র আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরেন। মালয়েশিয়া, চীন, লাওস, মিয়ানমার, তিমুর-লেস্তে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এতে স্থান পায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের একসঙ্গে বসবাস, শেখা ও ধর্মপ্রচারের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ফুটে ওঠে।
দ্বিতীয় পর্বে সাংলাহি ডান্স ট্রুপ ও রোনডালা ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করে। তিনিকলিং ও পান্দাঙ্গো সা ইলাও-এর মতো নৃত্য দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। এমনকি কয়েকজন প্রতিনিধি তিনিকলিং নৃত্যে অংশ নিলে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের রূপ নেয়।
সমাপনী নাটিকায় IFFAsia-র শিক্ষার্থীরা সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদা ও আশা-র বার্তা তুলে ধরেন। জাম্বোয়াঙ্গায় আসন্ন মিশন আউটরিচ প্রকল্পকে সামনে রেখে পরিবেশিত এই নাটিকার মূল বার্তা ছিল “কাজের মাধ্যমে আশা”।
অনুষ্ঠানটি দেখিয়ে দেয়, এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য শুধু পার্থক্যের পরিচয় নয়; বরং তা মিলন, সংলাপ ও সহযোগিতার শক্তি হয়ে উঠতে পারে। ডিজিটাল মিশনারিদের জন্যও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা বোঝা কার্যকর সুসমাচার প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সমাবেশের বাকি দিনগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মণ্ডলীর সুসমাচার প্রচারকে আরও কার্যকর করা এবং এশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণমূলক অধিবেশনে অংশ নেবেন। অনুবাদ – অতনু দাস।
