লক্ষ্মীবাজার ধর্মপল্লীতে জাতীয় যুব ক্রুশ বরণ ও প্রার্থনানুষ্ঠান

লক্ষ্মীবাজার পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীতে যুবাদের অংশগ্রহণে জাতীয় যুব ক্রুশ বরণ ও প্রার্থনানুষ্ঠান

গত সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারস্থ ঐতিহ্যবাহী পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীতে মহাসমারোহে যুবাদের অংশগ্রহণে জাতীয় যুব ক্রুশ বরণ প্রার্থনানুষ্ঠান করা হয়।

জাতীয় যুব ক্রুশ বরণ প্রার্থনানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মপল্লীর পাল- পুরোহিত উজ্জ্বল লিনুস রোজারিও, ফাদার দিগন্ত ফাদার নিখিল গমেজ, সিস্টার লাইলী রোজারিওসহ বিভিন্ন স্টিারগণ, সেমিনারীগণ হোস্টেল থেকে আগত ভাই বোনেরা।

আমরা হয়তো অবগত আছি যে, প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ২০২৭ খ্রীষ্টাব্দে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব যুব দিবস। তারই প্রস্তুতিস্বরূপ যুব ক্রুশ এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে এবং সেখানকার জনগণ ক্রুশের প্রতি আরাধনা ভক্তি প্রদর্শন করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আগত যুব ক্রুশ এখন লক্ষ্মীবাজার ধর্মপল্লীতে  এসে পৌঁছেছে এবং আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ-বরণ আরাধনা করছি। এই যুব ক্রুশ তীর্থযাত্রী ক্রুশ, জুবিলী ক্রুশ, পবিত্র ক্রুশ, যুব ক্রুশ নামেও পরিচিত।

পোপ জন পল বিশ্বাস করেন, যারা সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় তীর্থযাত্রার জন্য একত্রিত হয় তাদের অবশ্যই ক্রুশের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে, কারণ ক্রুশ আমাদের বিশ্বাসের চিহৃ।

যুবাদের অংশগ্রহণে লক্ষ্মীবাজার ধর্মপল্লীতে জাতীয় যুব ক্রুশ বরণ ও প্রার্থনানুষ্ঠান

তাই পোপ মহোদয় ১৯৮৪ খ্রীষ্টাব্দে পবিত্র মুক্তিবর্ষের তাপলপত্র রবিবারে যুবাদের রোমে আহ্বান করেন এবং প্রায় তিন লক্ষ্য যুবা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেখানে একত্রিত হন।

পোপ মহোদয় . মিটার এক বড় ক্রুশ সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার বেদীর পাশে স্থাপন করেন এবং মুক্তির পূণ্য বর্ষের সমাপনীতে, তা যুবকদের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, “তোমরা এই ক্রুশ সমগ্র বিশ্বে বহন কর এবং খ্রীষ্টের ভালবাসার সাক্ষ্য দান কর।

আর তোমরা ঘোষণা কর যে, খ্রীষ্ট যে ক্রুশে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই ক্রুশেই মানবজাতির মুক্তি পরিত্রাণ”, বলেন পোপ মহোদয়।

সেই থেকেই ক্রুশ হয়ে উঠেছে যুবাদের জন্য বিশ্বব্যাপী বহন প্রচার করার মিশন/প্রেরণকর্ম যা বিশ্বাস, একতা আশার চিহৃ হয়ে উঠেছে। পোপের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুবাগণ তা সান লরেঞ্জো যুব সেন্টারে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার পাশে নিয়ে যান এবং সেখানেই ক্রুশ অবস্থান করে যতদিন না তা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যাত্রা শুরু করে।

এই ক্রুশ ভ্রমণ করছে দেশ থেকে দেশে, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ভালবাসা, পরিত্রাণ, একতা, আশার চিহৃ হয়ে। কারণ পোপ মহোদয় উপলব্ধি করেছেনযুবারা হলো মণ্ডলীর ভবিষ্যৎ, কেন্দ্রবিন্দু।

তারা মণ্ডলী সমাজের আশা, কারণ তাদের রয়েছে অপার সম্ভাবনা এবং অদম্য ইচ্ছা শক্তি। পোপের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে ১৯৮৫ খ্রীষ্টাব্দে যখন জাতিসংঘের আন্তর্জাাতিক যুব বর্ষকে কেন্দ্র করে যুবারা আবার একত্রিত হন।

আর পোপ মহোদয় এর পরেই যুব দিবস অফিসিয়ালী ঘোষণা করেন। স্থানীয়ভাবে ধর্মপ্রদেশ ভিত্তিক প্রথম যুব দিবস উদযাপিত হয় ১৯৮৬ খ্রীষ্টাব্দে এবং কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে রোমের বাইরে ১৯৮৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম যুব দিবস উদযাপিত হয় আার্জেন্টিনার Buenos Aires - তারপর থেকে এই যাত্রা চলমান।  

পরিশেষে বলতে চাই, এই ক্রুশ বহন করা মানে খ্রীষ্টকে বহন করা এবং তার ভালবাসা, আশা কৃপা বহন করে অন্যকে ঐশ ভালবাসায় আলিঙ্গন করা এবং বহু মানুষের জীবনকে স্পর্শ করে জীবনের রূপান্তর আশা নিয়ে আসা। ক্রুশের সুসমাচার প্রচার করা। - আরভিএ সংবাদ

Bengali pop up image