গোপালপুর স্বর্গোন্নীতা মারীয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পরিবারে জপমালা প্রার্থনা বিষয়ক সেমিনার

স্বর্গোন্নীতা মারীয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পরিবারে জপমালা প্রার্থনা বিষয়ক সেমিনার

গত ২৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত গোপালপুর স্বর্গোন্নীতা মারীয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পরিবারে জপমালা প্রার্থনা বিষয়ক সেমিনার।

রাজশাহী  ধর্মপ্রদেশীয় হলি ক্রস ফ্যামিলি রোজারী মিনিস্ট্রি সহযোগিতায়  এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারের মূলসুর ছিল, “যে পরিবার একত্রে প্রার্থনা করে, সেই পরিবার একত্রে বাস করে এতে ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত, ফাদার অনিল ইগ্নেসিউস মারাণ্ডীসহ জন ফাদার, জন সিস্টার, বিভিন্ন গ্রামের মারীয়ার সংঘ মায়েরা মিলে প্রায় ১১০ জন অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে শুরুতে ছিল প্রার্থনা মা মারীার গান। এরপর মূল বিষয়ের উপর সহভাগিতা করেন ফাদার অনিল মারাণ্ডী। তিনি বলেন, “জপমালা প্রার্থনা হচ্ছে আমাদের নিত্যদিনের সহজ সরল মৌখিক প্রার্থনা। বিভিন্ন প্রার্থনার সংমিশ্রন আবৃতিমূলক প্রার্থনা হলেও এটি একটি গভীর ধ্যানমূলক প্রার্থনা।

তিনি সাধু পোপ ২য় জন পলের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘জপমালা প্রার্থনা হলো সেই মধুর শিকল, যা ঈশ্বরের সাথে আমাদের যুক্ত করে দেয়।

আবার জপমালা যাজক প্যাট্রিক পেইটন, সিএসসি কথা উল্লেখ করে বলেন, “যে পরিবার একত্রে প্রার্থনা করে, সেই পরিবার একত্রে বাস করে।জপমালা  প্রার্থনা হলো পরবিারের খাদ্য। এই খাদ্য পরিবারের সবার জন্য একান্ত প্রয়োজন। তাই পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাবা-মা, ছেলে- মেয়ে সবাই একত্রে এই প্রার্থনা করা প্রয়োজন,” বলেন ফাদার মারাণ্ডী।

আধ্যাত্নিক প্রস্তুতি স্বরূপ অংশগ্রহণকারীগণ পাপ স্বীকার সংস্কার গ্রহণ করেন পবিত্র খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র খ্রিস্টযাগের উপদেশে ফাদার অনিল   বলেন, “আপনরা যদি বিশ্বাস করেন, তবে প্রার্থনা করবেন। আবার সাধ্বী মাদার তেরেজা বলেছেন, ‘‘প্রার্থনার ফল হলো বিশ্বাস, বিশ্বাসের ফল হলো প্রেম, প্রেমের ফল হলো সেবা, সেবার ফল হলো শান্তি তাই সেই গভীর বিশ্বাস নিয়েই আমাদের প্রার্থনা করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী আগ্নেশ বিশ্বাস তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমি একজন মারীয়ার সংঘের সদস্যা। আমি অনেক অসুস্থ ছিলাম। আমার প্যারালাইসিস হয়ে ছিল, আমি হাঁটতে পারতাম না। মা মারীয়ার মধ্যস্থতা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে সুস্থ হয়েছি। আমি এখন খুব ভালো আছি।

তিনি আরো বলেন, “আমি মা মারীয়া ঈশ্বরের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। আমি আমার পরিবারের সবাই প্রতিদিন সন্ধ্যায় পবিত্র জপমালা প্রার্থনা করি। আমার বিশ্বাস আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।”- ফাদার অনিল ইগ্নেসিউস মারাণ্ডী