দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের সুইহারী ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো দীক্ষাস্নান ও প্রথম খ্রীষ্টপ্রসাদ সাক্রামেন্ত প্রদান অনুষ্ঠান
গত ৩১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দিনাজপুর সুইহারী ধর্মপল্লীতে খ্রীষ্টভক্তদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো দীক্ষাস্নান ও প্রথম খ্রীষ্টপ্রসাদ সাক্রামেন্ত প্রদান অনুষ্ঠান।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে, পিতা-মাতা ও খ্রীষ্টভক্তদের উপস্থিতিতে পবিত্র খ্রীষ্টযাগের মধ্য দিয়ে ধর্মীপল্লীর বিভিন্ন গ্রামের মোট ৭৮ জন প্রার্থীকে প্রথম খ্রীষ্টপ্রসাদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ পূর্বে ধর্মপল্লীর বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত ছেলে-মেয়েদের ধর্ম শিক্ষা ক্লাস দেওয়া হয় এবং প্রার্থীগণ নিজেদের আধ্যাত্নিকভাবে প্রস্তুত করেন ও পাপ-স্বীকার সংস্কার গ্রহণ করেন খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণের জন্য।
প্রথম খ্রীষ্টপ্রসাদ সাক্রামেন্ত অনুষ্ঠানের আগের দিন সন্ধ্যায় মা মারীয়ার গ্রোটোর সামনে গ্রামের নারী-পুরুষ ও প্রথম কুমনিয় প্রার্থী ছেলেমেয়েদের নিয়ে রোজারিমালা প্রার্থনা অনুষ্ঠান করা হয়।
এই রোজারিমালা প্রার্থনা অনুষ্ঠান শেষে ধর্মপল্লীর আটজন দীক্ষাস্নান (বাপ্তিস্ম) সংস্কার প্রদানকরা হয়।
পবিত্র খ্রীষ্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার মাইকেল মুর্মু এবং তাঁকে সহায়তা করেন ফাদার বাল্লান পিমে, ফাদার ভামসি পিমে এবং ফাদার ফ্রাংকো পিমে।
ফাদার মাইকেল মুর্মু শিশুদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, “আজকের এই দিনে তোমরা যে বিশ্বাস ও আকাঙ্খা নিয়ে যীশুকে খ্রীষ্টপ্রসাদের মাধ্যমে গ্রহণ করছ, সেই বিশ্বাস ও আকাঙ্খা যেন সারা জীবন ধরে রাখতে পার।”
তিনি আরও বলেন, “সাতটি সাক্রামেন্তের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্রামেন্ত হলো খ্রীষ্টপ্রসাদ। তোমরা যারা আজকে এই সাক্রামেন্ত গ্রহণ করবে তোমরা সবাই খ্রিস্টকে আরো গভীরভাবে তোমাদের হৃদয়ে উপলব্দি করতে পারবে।”
প্রথম খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণকারী একজন তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমার অনেক ইচ্ছা ছিল যে, খ্রীষ্টপ্রসাদ আকারে যীশুকে গ্রহণ করবো। আজ আমি সেই খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণ করেছি। আপনারা আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন যেন আমি যীশুর আদর্শে পথ চলতে পারি।”
পবিত্র খ্রীষ্টযাগের শেষে অংশগ্রহণকারী সকল ছেলেমেয়ের হাতে সার্টিফিকেট ও রোজারিমালা প্রদান করা হয়। - আরভিএ সংবাদ