পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লী লক্ষ্মীবাজারে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সভা
গত ৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশনের আয়োজনে পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লী লক্ষ্মীবাজারে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সভা।
এ সেমিনারের মূলসুর ছিল “এসো ধর্মে-ধর্মে, মানুষে-মানুষে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করি”। এতে বিভিন্ন ধর্ম থেকে আগত প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে।
এ সভার শুরুতেই ছিল পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করে আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করা।
ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশনের সভাপতি আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুশ বলেন, “সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে আমরা সবাই আহুত। প্রত্যেক ধর্মেই “আশরাফুল মাখ লুকাত” ”মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব”এর কথা বলে। আল্লাহ চান আমরা সবাই মঙ্গল করি। ভালকাজে প্রতিযোগিতা করি।”
তিনি আরো বলেন, “প্রত্যেক ধর্মে শান্তি সম্প্রীতির উপাদান আছে। ইহুদীদের প্রবক্তা মিখা বলেছেন, “ধর্ম কি? ধর্ম হলো ন্যায় সঙ্গত কাজ কর, বিনম্রভাবে চলাফেরা কর, এবং গভীরভাবে ভালবাস।”
“ঈশ্বর প্রেম, প্রেমই ঈশ্বর। প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, “সব ধর্ম হলো ঈশ্বরের কাছে যাওয়ার পথ”, বলেন আর্চবিশপ বিজয় ।
ইসলাম ধর্মের আলোকে মাওলানা মোহাম্মদ জাকির হোসেইন বলেন, “ইসলাম হচ্ছে শান্তি, নিরাপত্তা ও আত্মসমর্পণ। ইসলাম সকলের জন্য নিয়ে এসেছে মুক্তির পয়গাম। সকল মানুষ হচ্ছে আদম সন্তান। সকলের উদ্দেশ্য এক - শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। “রাব্বুুল আলামীন”। সকল দেশের জন্য, সকল জাতির জন্য এই শান্তি।”
তিনি আরো বেলন, “সম্প্রদায়ে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) লিখেছেন “মদীনা সনদ” হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদী, মুসলিম সবাই স্বাধীনভাবে তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে।”
“তোমরা ন্যায় ও ভালকাজে পরস্পরকে সহায়তা কর। যে প্রতিবেশীকে ভালবাসেনা সে মোমেন না। আমরা যেন হিংসা বিদ্বেষ না করি। অতিরিক্ত লোভ বর্জন করি। প্রত্যেক ধর্মকে যেন সবাই শ্রদ্ধা করি”, বলেন জাকির হোসেইন।
সনাতন ধর্মের আলোকে স্বামী দেবাধিআনন্দ বলেন, “আমরা বাইরে সম্প্রীতি খুঁজি; কিন্তু সম্প্রীতি রয়েছে আমাদের অন্তরে- নিজের ঘরে, সেখানে খুঁজতে হবে। অন্তরের গভীরে খুঁজা কারণ আমাদের অন্তরের গভীরে রয়েছে সেই একতা।”
বৌদ্ধ ধর্মের আলোকে সত্যপ্রিয় থের বলেন, “শান্তি সম্প্রীতি করতে গেলে আগে নিজের মধ্যে শান্তভাব আনতে হবে। আর দেখতে হবে আমি নিজে কতটুকু ভাল আছি। এই পৃখিবীতে বহু সম্প্রদায়ের মানুষ আমরা থাকব কিন্তু আমি যেন কারো পচনের কারণ না হই।”
লক্ষ্মীবাজার পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার উজ্জ্বল লিনুস রোজারিও তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “অন্য ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার পরিবেশে। সংলাপই পথ, সহযোগিতাই আচরণের নীতি, আর পারস্পরিক বোঝাপড়াই হলো পদ্ধতি ও মানদণ্ড।”
পরিশেষে ফাদার কাকন লুক কোড়াইয়া সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। - সিস্টার রেবা ডি কস্তা, আরএনডিএম
