মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর: মানবতার বার্তা ও কূটনৈতিক তাৎপর্য

মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর: মানবতার বার্তা ও কূটনৈতিক তাৎপর্য। ছবি -ইন্টারনেট সৌজন্যে

বিগত  শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর প্রথম ভারত সফর শুরু করেন কলকাতায় একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে। তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা শহরে কাটান।

রুবিও তাঁর স্ত্রী জ্যানেট ডাউসডেবেস রুবিও এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের সঙ্গে পরে সকাল প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে মার্কিন বিমানবাহিনীর বোয়িং C-32A বিমানে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত বৈঠক ছিল।

সুইডেন থেকে সরাসরি উড়ে এসে রুবিও সকাল প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সরাসরি মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দফতরে যান। তিনি সকাল প্রায় ৭টা ৩৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সফরটি ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগে। রুবিও প্রায় ৮৫ মিনিট সময় কাটান মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদস্যদের সঙ্গে, একটি প্রার্থনা সভায় অংশ নেন এবং মাদার তেরেসার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে রুবিও এক্স-এ লেখেন, “মাদার তেরেসা মানবতা ও সেবার এক অসাধারণ উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। আজ তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিশনারিজ অব চ্যারিটি পরিদর্শন করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি...”

মিশনারিজ অব চ্যারিটির সেক্রেটারি জেনারেল সিস্টার কনচেত্তিনা এমসি বলেন, তাঁরা একই সঙ্গে বিস্মিত এবং সম্মানিত বোধ করেছেন রুবিওকে আতিথ্য জানাতে পেরে। তিনি বলেন, “এত উচ্চপদস্থ একজন অতিথি এখানে আসবেন, আমরা আশা করিনি। কিন্তু মাদার হাউসে আসা তাঁর নিজের ইচ্ছা ছিল এবং তাঁকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত, কারণ তিনি মাদারের সমাধিতে আশীর্বাদ গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন।”

এরপর রুবিও যান নির্মলা শিশু ভবনে, যা মিশনারিজ অব চ্যারিটির পরিচালিত পরিত্যক্ত, অসহায় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আবাসন কেন্দ্র। সেখানে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট শিশু ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সময় কাটান।

এই সফরে রুবিওর সঙ্গে থাকা সার্জিও গর পরে এক্স-এ লেখেন, “এ ধরনের মুহূর্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মার্কিন-ভারত অংশীদারিত্ব শুধু শক্তিশালী নীতির ওপর নয়, বরং যৌথ মূল্যবোধ এবং নিঃস্বার্থ সেবার সেই চেতনার ওপরও দাঁড়িয়ে আছে, যা সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১৪ বছরে এই প্রথম কোনও মার্কিন বিদেশ সচিব কলকাতা সফর করলেন। এর আগে ২০১২ সালে কলকাতায় এসেছিলেন হিলারি ক্লিনটন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; এর মাধ্যমে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে। কলকাতার মতো মানবসেবার প্রতীক শহর থেকে সফর শুরু হওয়াকে অনেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

প্রতিবেদন - তেরেসা রোজারিও