মণ্ডলীর দায়িত্বে যাজক ও খ্রিস্টভক্তদের যৌথ অংশগ্রহণে সিনোডাল নেতৃত্ব শক্তিশালী করার আহ্বান

গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সিনোডালিটি কমিশনের নির্বাহী সচিব ফাদার ক্ল্যারেন্স দেবাদাস ব্যাংককের বান ফু ওয়ানে জাতীয় সিনোডাল সমাবেশের দ্বিতীয় অধিবেশনে মণ্ডলীতে ধর্মগুরুদের পাশাপাশি সাধারণ খ্রিস্টভক্তদের প্রকৃত দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন“মণ্ডলীতে ধর্মগুরুদের পাশাপাশি সাধারণ খ্রিস্টভক্তদের যৌথভাবে মণ্ডলীর বিভিন্ন কার্যক্রম সমূহের মধ্যে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

এশিয়ার বিশপ সম্মেলনসমূহের ফেডারেশনের (FABC) সহ-সভাপতি কার্ডিনাল পাবলো ভির্জিলিও ডেভিড, সিনোডাল প্রক্রিয়ায় বিশপদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে ফাদার দেবাদাস আলোচনা করেন কীভাবে যাজক ও মণ্ডলীর অর্ন্তভুক্ত বিভিন্ন কমিশনগুলোকে সিনোডালের প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়।

তিনি বলেন, রোমে অনুষ্ঠিত সিনোডের জন্য প্রস্তুত করা বিভিন্ন প্রতিবেদনে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল এবং সিনোডালিটির প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এসেছে যাজকদের কাছ থেকেই।

ফাদার দেবাদাস বলেন, যাজকদের এই ধরনের মনোভাব কিছুটা বোধগম্য। কারণ সাধারণ খ্রিস্টভক্তগণ ইতোমধ্যেই নানা ধরনের যাজকীয় দায়িত্ব পালন করে থাকেন যেমন সাক্রামেন্ত প্রদান,হাসপাতাল ও বাড়িতে অসুস্থদের পরিদর্শন করা এবং ধর্মপল্লীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাশে থেকে তাদের সহযোগিতা করা এসবই তাঁদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ।

তাঁর মতে, সিনোডালিটির পথে এগিয়ে যাওয়া হলো যাজকদের বোঝানো যে, সিনোডালিটি তাঁদের কাজের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আরেকটি নতুন কর্মসূচি নয়।বরং তারা যা করছে তা আরো জোরালোভাবে করা।

এছাড়া তিনি আরো উল্লেখ্য করেন যে, নতুন কোনো কার্যক্রম যোগ করার পরিবর্তে, যাজকেরা তাঁদের দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যেই সিনোডাল চেতনা অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তাই এ পরির্বতন শুধু মণ্ডলী কি করছে তা নয় বরং মণ্ডলীতে থেকে সকল কার্যক্রমগুলো কিভাবে পরিচালনা হচ্ছে তার দিকে ও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

তবে কিছু ইতিবাচক নিয়মিত অভ্যাস ধর্মপল্লীর কার্যক্রমকে আরও সিনোডাল করে তুলতে পারে। যেমন যাজক কীভাবে পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উদযাপন করেন, কীভাবে বাড়িতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, কীভাবে যাজকদের সভা পরিচালনা করেন এবং কীভাবে ক্ষুদ্র খ্রিষ্টীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশে থাকেন এসবের মধ্যেই সিনোডাল চেতনা প্রকাশ পেতে পারে।

ফাদার দেবাদাস তাঁর নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। প্রতি রবিবার পবিত্র খ্রিষ্টযাগ শেষে তিনি গির্জার প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন।

তিনি বলেন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য মানুষের দিকে তাকানো, শুভেচ্ছা জানানো কিংবা গির্জায় আসার জন্য ধন্যবাদ জানানো এমন ছোট ছোট বিষয়ও খ্রিস্টভক্তদের অনুভব করাতে পারে যে, তাদের দেখা হচ্ছে এবং তাদের কথা শোনা হচ্ছে।

এ ধরনের সাধারণ ও আন্তরিক সাক্ষাৎ-পরিচয় এমন একটি মণ্ডলীর -সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে, যেখানে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরিবর্তে শোনা, বোঝা এবং মানুষের পাশে থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সিনোডালিটি বলতে এমনটিও বোঝায় না যে, যাজক বা বিশপ তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন তবে কোন বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কাউকে না কাউকে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মণ্ডলী কীভাবে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মানুষের কথা শোনা হয়েছে কি না, বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিবেচনা করা হয়েছে কি না এবং খ্রিস্টভক্তদের সিদ্ধান্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় অর্থবহভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।- আরভিএ সংবাদ।

 

Bengali pop up image