শত বছরের পুরোনো ঢাকা ওয়ারীর কবরস্থান সংরক্ষণে দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার কার্যক্রম শুরু

ঢাকা ওয়ারীতে অবস্থিত খ্রিষ্টান কবরস্থানের সংরক্ষণে দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার কার্যক্রম শুরু

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শত শত বছরের পুরোনো ঢাকা ওয়ারীতে অবস্থিত খ্রিষ্টান কবরস্থানের সংরক্ষণে দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ ক্রুজ, ওএমআই এর সভাপতিত্বে উক্ত সংস্কার কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসন আবদুস সালাম।

 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কবরস্থানের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। আবদুস সালাম বলেন, “সিমেট্রিকে শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কবরস্থান হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে ছোট করা হয়।”

 “তিন শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ঢাকার যে নগর ইতিহাস এখানে জমা হয়েছে, তার দৃশ্যমান দলিল হিসেবে এই সিমেট্রির কবর, সমাধিফলক ও স্থাপনাগুলোর গুরুত্ব রয়েছে, ” বলেন সালাম।

নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চলাচলের পথ, ড্রেনেজ ও আলোর মতো মৌলিক সমস্যা সমাধান না হলে সংরক্ষণের কাজ টেকসই হবে না। তাই উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, প্রশাসক সালাম।

পুরোনো ঢাকা ওয়ারীতে অবস্থিত খ্রিষ্টান কবরস্থানের সংরক্ষণে দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার কার্যক্রম শুরু

আর্চবিশপ এন. ডি’ ক্রুজ বলেন, “গত বছর কলম্বো সাহিবের সমাধি ও ঐতিহাসিক মুরিশ গেটওয়ে সংস্কারের মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা। ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা খ্রিষ্টিয়ান সেমিটারী বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সিমেট্রিস ইন সাউথ এশিয়া (বিএসিএসএ) ও দ্য কমনওয়েলথ হেরিটেজ ফোরামের (সিএইচএফ) সহযোগিতায় সংস্কার শেষে স্থাপনা দুটি উদ্বোধন করা হয়। এবারও তারাই অর্থায়ন করছে।”

“দ্বিতীয় ধাপের লক্ষ্য কেবল ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত নয়। প্রতিটি স্মৃতিচিহ্নের ইতিহাস, পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়াই উদ্দেশ্য,” বলেন আর্চবিশপ।

কবরস্থানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান ফাদার ডেভিড গমেজ বলেন, “নারিন্দা সিমেট্রির সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু বয়স নয়, ভেতরে থাকা ইতিহাসের বৈচিত্র্য। মুঘল আমলের ঢাকা থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় ও ঔপনিবেশিক পর্যায় পর্যন্ত শহরের প্রতিটি বাঁকবদলের সঙ্গে সিমেট্রির ইতিহাস জড়িয়ে গেছে।”

 ফলে এখানে থাকা প্রতিটি পুরোনো সমাধিফলক বা স্মৃতিচিহ্নকে আলাদা একটি ঐতিহাসিক নথি হিসেবেও দেখা যায়, এই সমাধিক্ষেত্রটি ঠিক কতটা পুরোনো, তা স্পষ্ট জানা যায়নি।

এক সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠার সময় উল্লেখ করা হয়েছে ১৬০০ সাল। সেই হিসেবে এর বয়স ছাড়িয়েছে ৪০০ বছর। সে সময় ঢাকায় ইউরোপের নানা দেশ থেকে বণিকরা আসছিলেন।

পর্তুগিজ, ডাচ, ফরাসি, আর্মেনিয়ান, গ্রিক ও ইংরেজরা পর্যায়ক্রমে আসেন। এর সঙ্গে ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে আসেন মিশরীয়রা। এদেশে বাইরের এই জাতিগুলোর মানুষ স্থায়ী হতে থাকেন।

তাই বাড়ি-ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মতো প্রয়োজন হয় সমাধিক্ষেত্রেরও। তখন থেকেই এই করবস্থানটি মৃত ব্যক্তিদের শেষ ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। - ডিসিনিউজ

Bengali pop up image